সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে অশান্তি নতুন কিছু নয়। তবে এই সম্পর্ক যখন বিবাহ বহির্ভূত হয়, তখন অনেক সময় তা নিয়ে তৈরি হয় পারিবারিক চাপ, সামাজিক প্রশ্ন ও কটাক্ষ। কিন্তু সেই অশান্তি যদি পৌঁছয় জনসমক্ষে হেনস্থার পর্যায়ে, তাহলে তা শুধু ব্যক্তি নয়, গোটা সমাজের প্রশ্ন হয়ে ওঠে। এমনই এক ঘটনার জেরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি এলাকায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিহাটি ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক যুবক এবং এক বিবাহিত মহিলার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ। সেই সম্পর্ক ঘিরে কিছুদিন ধরেই চাপা গুঞ্জন চলছিল এলাকায়। অবশেষে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করতে ওয়ার্ড অফিসে বসে এক সালিশি সভা। আর সেখানেই যা ঘটল, তা নিছকই গণ্ডগোল নয়, বরং জনসমক্ষে হেনস্থার নজির বলে অভিযোগ উঠেছে।
সালিশি সভায় যুবক ও তাঁর দিদিকে ডেকে পাঠানো হয়। অভিযোগ, সেখানেই কাউন্সিলর হিমাংশু দেব ও তাঁর অনুগামীরা দু’জনকে বেধড়ক মারধর করেন। এমনকি যুবকের দিদির জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ওই দিদির বক্তব্য, “আগে প্রমাণ দিন, আমার ভাই আদৌ ওই মহিলার সঙ্গে সহবাস করেছে কিনা! এইভাবে অপমান করা যায় না।” যুবক জানান, তাঁকে জোর করে বলা হচ্ছে, “ওই মহিলাকে বিয়ে করতে হবে, কিন্তু অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাচ্ছে না ওরা।”
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়দহ থানার পুলিশ। পুলিশের হস্তক্ষেপে যুবক ও তাঁর দিদিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কাউন্সিলর ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। যুবকের দাবি, শারীরিক হেনস্থার পাশাপাশি মানসিক অপমানও করা হয়েছে তাঁদের।
আরও পড়ুনঃ Vidyasagar University Controversy: “মেদিনীপুরের শহিদদের অপমান”! প্রশ্নপত্রে বিতর্কিত শব্দে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, বিজেপির অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীকে!
এই ঘটনায় নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন কাউন্সিলর হিমাংশু দেব। তাঁর বক্তব্য, “এমন কিছুই হয়নি। সবটাই সাজানো নাটক। আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।” যদিও ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। এখন দেখার, পুলিশি তদন্তে কোন দিক উঠে আসে—সত্যিই কি সালিশি সভার আড়ালে ছিল সামাজিক হেনস্থার মুখোশ, নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক চক্রান্ত?





