শতবর্ষ পেরিয়ে এসেও ইতিহাস যেন নতুন করে বিতর্কে। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের রক্ত আর আত্মত্যাগে লেখা যে ইতিহাস, তা নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠছে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষার পীঠস্থান হয়ে উঠেছে বিতর্কের কেন্দ্র। যেখানে দেশভক্তদের অপমান করে উঠেছে তীব্র ক্ষোভ।
সম্প্রতি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এক প্রশ্নে লেখা হয়, “মেদিনীপুরের তিনজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নাম করো, যারা সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা নিহত হন।” প্রশ্নটি সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে। বিপ্লবীদের সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষানুরাগী মহল থেকে সাধারণ মানুষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জয়ন্তকিশোর নন্দী বিষয়টি স্বীকার করে জানান, “উপাচার্যের নজরে আসার পরই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করতে গিয়েই হয়তো এই ভুল হয়েছে। তবে এই যুক্তিতে কেউই সন্তুষ্ট নন। প্রশ্ন উঠছে—ভুলের দোহাই দিয়ে কি ইতিহাস বিকৃতিকে চাপা দেওয়া যায়?
জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি তথা শিক্ষানুরাগী ডঃ শঙ্কর গুচ্ছাইত এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ইমেল মারফত অভিযোগ জানিয়েছেন। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় তীব্র নিন্দা করে বলেন, “এটাই এগিয়ে বাংলার নমুনা! মেদিনীপুরের মাটিতে বিপ্লবীদের সন্ত্রাসবাদী বলা রীতিমতো লজ্জার।”
আরও পড়ুনঃ WB Weather Update: রাজ্যের ১০ জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, কত দিন চলবে এই দুর্যোগ? জানাল হাওয়া অফিস
স্বাধীনতা সংগ্রামী বিমল দাশগুপ্তের পুত্র রণজিৎ দাশগুপ্ত বলেন, “এটা লজ্জার বিষয়।” শিক্ষানুরাগী সংগ্রামী মঞ্চের দাবি, যারা প্রশ্নপত্র তৈরিতে যুক্ত, তাদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ইতিহাসের এই রকম বিকৃতি মেনে নেওয়া যায় না। সমাজের সর্বস্তরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধিক্কার ধ্বনি উঠেছে—এ কি তবে নতুন করে ব্রিটিশ ভাবনার ছায়া?





“রাজনীতিতে তারকার খ্যাতি নয়, আদর্শ থাকা জরুরি!” “প্রত্যেককে নিরাপত্তা দেবে এমন একজনই হোক মুখ্যমন্ত্রী!” রাজনীতিতে তারকাদের ভূমিকা ও নির্বাচনে আদর্শহীন প্রার্থীদের নিয়ে অকপট লগ্নজিতা চক্রবর্তী!