আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন গোটা দেশ উন্নয়নের গল্প বলছে, তখন দেশের এক প্রান্তে ঘটে চলেছে এমন কিছু ঘটনা, যা সভ্যতাকে লজ্জায় ফেলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিয়ো, যেখানে এক যুগলকে ষাঁড়ের মতো লাঙলে বেঁধে মাঠে হাল টানাতে দেখা গিয়েছে। এমনকি, তাঁদের উপর চলে নির্মম অত্যাচারও। এই দৃশ্য সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। প্রশ্ন উঠেছে— এটা কি আদৌ ২০২৫-এর ভারত?
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের পাশের রাজ্য ওড়িশার রায়গড়া জেলার কাঞ্জামাঝিরা গ্রামে। জানা গিয়েছে, ভাইপো নিজের পিসিকে বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক সমাজের চোখে অবৈধ বলে মনে করে গ্রামবাসীরা। সেই ‘অপরাধের’ শাস্তি দিতেই তাঁদের এমন অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সম্পর্কের সীমা লঙ্ঘন করেছেন তাঁরা— তাই শাস্তি দরকার।
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, যুবক ও যুবতীকে জমিতে হাল টানানোর জন্য বাঁধা হচ্ছে লাঙলে। ঠিক যেভাবে ষাঁড়কে বাঁধা হয়। তাঁদের ওপর কঞ্চি দিয়ে মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, দুই পুরুষ যুবতীর শরীরে স্পর্শ করছেন। পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন দর্শক। একজন বৃদ্ধাও চড়াও হন, কিন্তু তাঁকে পরে থামিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনা ঘটেছিল প্রায় এক সপ্তাহ আগে। কিন্তু ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পরেই প্রশাসনের টনক নড়ে। রায়গড়ার পুলিশ সুপার এস স্বাতী কুমার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে একটি পুলিশ দল পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই মামলা রুজু করা হবে বলেও জানান তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ West Bengal Education: ১৩ বছর বয়সেও অজানা অ-আ-ক-খ! স্কুলে যায় না পড়ুয়ারা, কাঠগড়ায় শিক্ষাব্যবস্থা!
এই ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠেছে ওড়িশার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। বিরোধীরা সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত ওড়িশায় একের পর এক ধর্ষণ ও হিংসার ঘটনা ঘটছে। শুধুমাত্র গত ১৭ দিনেই রাজ্যে ৭টি ধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে প্রকাশ্যে এইভাবে শাস্তি দেওয়া হয়, সেখানে প্রশাসনের ভূমিকাটাই বা কোথায়?





