স্কুল মানেই বই-খাতা, পড়াশোনা, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা। কিন্তু যখন ক্লাস এইটের পড়ুয়াদের অ-আ-ক-খ শেখানো হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে—শিক্ষা কি আদৌ পৌঁছচ্ছে প্রত্যন্ত বাংলায়? প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ শহর যখন স্মার্ট এডুকেশন নিয়ে এগিয়ে চলেছে, তখন মালদহের এক সরকারি স্কুলে বর্ণপরিচয় দিয়েই শুরু হচ্ছে পড়াশোনার পথচলা!
পুরাতন মালদহের সাহাপুর এলাকার এক সরকারি স্কুলে ১২-১৩ বছরের ছেলেমেয়েদের এখনও শেখানো হচ্ছে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ। ব্ল্যাকবোর্ডে অ-আ-ক-খ লিখে শিক্ষকেরা হাতে ধরে বর্ণপরিচয়ের পাঠ দিচ্ছেন ক্লাস এইটের পড়ুয়াদের। শুধু এই একটি ক্লাস নয়, অন্যান্য শ্রেণিতেও একই অবস্থা। এমনকী, অনেকে নিজের নাম পর্যন্ত লিখতে জানে না বলে অভিযোগ।
শিক্ষকদের দাবি, পড়ুয়ার সংখ্যা খাতায়-কলমে ৩০ হলেও, নিয়মিত স্কুলে আসে মাত্র ৫ জন। কেউ একদিন আসে, কেউ চারদিন অনুপস্থিত। এমন অনিয়মিত উপস্থিতির কারণ হিসেবে তাঁরা দায় দিচ্ছেন অভিভাবকদেরও—যাঁরা নিজেরাই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী নন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, এই শৈক্ষিক অচলাবস্থার পেছনে রয়েছে রাজ্যের শিক্ষানীতির কিছু গাফিলতি। পাশ-ফেলের ধারণা তুলে দেওয়ায় পড়ুয়াদের পড়াশোনা নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। সেই সঙ্গে শিক্ষকসংখ্যা মাত্র ৫, যাঁদেরই স্কুলের সমস্ত কাজ সামলাতে হয়। ক্লাস নেওয়া থেকে শুরু করে স্কুলের ঘণ্টা বাজানো পর্যন্ত সবই তাঁদের করতে হয়।
আরও পড়ুনঃ TMC : দলেরই নেতার হাতে তৃণমূল নেতা খু*ন! জন্মদিনের পার্টিতে রক্তা*রক্তি কাণ্ড!
এই একটি স্কুলের সমস্যা নয়। কেন্দ্রীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে এমন তিন হাজারের বেশি স্কুল রয়েছে, যেখানে কোনও পড়ুয়াই ভর্তি হয়নি। এমনকি, শুধুমাত্র একজন শিক্ষক নিয়েই চলছে ৬ হাজার ৩৬৬টি স্কুল। শিক্ষা যে এখনও অনেক দূরের স্বপ্ন—তা আরও একবার স্পষ্ট মালদার এই ছবিতে।





