প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় জ্বালানির খরচ এক বড় চিন্তার বিষয়। বিশেষত, ছোট ব্যবসায়ী, হোটেল, রেস্তোরাঁ মালিকদের জন্য রান্নার গ্যাসের খরচ একটা বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তবে আগস্টের প্রথম দিনেই এল এক স্বস্তির বার্তা। ১ অগাস্ট থেকে দেশে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। যদিও বাড়িতে ব্যবহৃত সাধারণ এলপিজি গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, তবু বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই রেট কমানো যথেষ্ট ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিন থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৩.৫০ টাকা থেকে ৩৪.৫০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে দেশের বিভিন্ন মেট্রো শহরে। এই দাম কমার ফলে ছোট ছোট খাবারের দোকান, ধাবা, রেস্তোরাঁগুলির দৈনন্দিন খরচ কিছুটা হলেও হালকা হবে। দিল্লিতে নতুন দাম অনুযায়ী ১৯ কেজি সিলিন্ডারের দাম এখন ১৬৫০ টাকার নিচে নেমে এসেছে, মুম্বইতে কমে হয়েছে ১৬০০ টাকার কম। আর চেন্নাইয়ে তো ১৮০০ টাকার নিচেই নামিয়ে আনা হয়েছে এই সিলিন্ডার।
সবচেয়ে বড় দাম হ্রাস দেখা গেল কলকাতা এবং চেন্নাই শহরে। কলকাতায় আগে যেখানে ১৯ কেজির কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ছিল ১৭৬৯ টাকা, সেখানে এখন সেই দাম দাঁড়িয়েছে ১৭৩৪ টাকা। অর্থাৎ দাম কমেছে ৩৫ টাকা। যদিও গার্হস্থ্য গ্রাহকদের জন্য এখনও সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত—৮৭৯ টাকা। তবে ব্যবসায়িক চাহিদা অনুযায়ী এই হ্রাস ভবিষ্যতে রেস্তোরাঁর খাবারের দামেও স্বস্তি আনতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে শুরু করে জুলাই এবং এখন আগস্ট—টানা চতুর্থ মাস ধরে বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের দাম কমানো হচ্ছে। দিল্লিতে এই চার মাসে দাম কমেছে ১৩৮ টাকা, কলকাতায় ১৪৪ টাকা, মুম্বইতে ১৩৯ টাকা এবং চেন্নাইয়ে ১৪১.৫০ টাকা। এই ধারা চলতে থাকলে ব্যবসায়িক খাতে খরচ আরও সাশ্রয়ী হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ বনেদি বাড়ির ছেলে হয়েও ঠাঁই হয়েছিল অনাথ আশ্রমে! এক মুঠো অন্নের জন্য করেছেন সংগ্রাম! শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও নায়ক ছিলেন সুখেন দাস
এলপিজি সিলিন্ডারের দামে এই ওঠানামার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, ডলারের নিরিখে টাকার দাম, আন্তর্জাতিক এলপিজির রেট, শুল্ক, প্যাকেজিং, বিপণন খরচ, ডিলার কমিশন, পোর্ট চার্জ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের মূল্য নির্ধারণের হিসেব। তাই প্রতি মাসের শুরুতেই দেখা যায় এই পরিবর্তনের হাওয়া।





