Organ Transport: দেশজুড়ে নতুন চমক! অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ইতিহাসে যোগ হল নতুন অধ্যায়, প্রাণ বাঁচাতে মেট্রোয় নিয়ে যাওয়া হলো লিভার!

রাত তখন অনেকটা পেরিয়েছে। মেট্রোর শেষ কামরাটি তখন যেন কোনও সাধারণ যাত্রার সাক্ষী নয়—বরং চলছে জীবন বাঁচানোর লড়াই। ভারতে ফের একবার মেট্রো রেল ব্যবহৃত হল মানব অঙ্গ পরিবহণের জন্য। বেঙ্গালুরুর বুকে গড়ে উঠল এক অভিনব দৃষ্টান্ত, যেখানে দ্রুত অঙ্গ প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটল মেট্রো। তবে এই ঘটনা এবারই প্রথম নয়, অতীতেও ঘটেছে এমন একবার।

ভারতের ইতিহাসে এটিই দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে মেট্রো ব্যবহৃত হল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পরিবহণে। এবার বেঙ্গালুরুতে নম্মা মেট্রো হয়ে এক দল চিকিৎসক ও নার্স একটি লিভার নিয়ে যাত্রা করলেন হোয়াইটফিল্ড থেকে রাজারাজেশ্বরী নগর। এই পুরো পরিকল্পনাটি করা হয় ‘গ্রিন করিডর’ পদ্ধতিতে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। বেঙ্গালুরু মেট্রো রেল কর্পোরেশনের (BMRCL) তরফে জানানো হয়েছে, সময়ের সঠিক ব্যবহার করতেই এই দ্রুতগতির যাত্রা।

এই উদ্দেশ্যেই হোয়াইটফিল্ডের বৈদেহী হাসপাতাল থেকে প্রথমে ৫.৫ কিমি ‘গ্রিন করিডর’ করে লিভারটি পৌঁছয় হোয়াইটফিল্ড মেট্রো স্টেশনে রাত ৮টা ৩৮ মিনিটে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার ও মেডিক্যাল স্টাফরা। মেট্রোর শেষ কামরাটি একেবারে অঙ্গ পরিবহণের জন্য নির্ধারিত ছিল। সিকিউরিটি টিম পুরো কোচটি জীবাণুমুক্ত করে প্রস্তুত রাখে, সঙ্গে ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সিকিউরিটি অফিসার স্বয়ং। তাঁর উপস্থিতিতে সিকিউরিটি চেক এবং যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়।

রাত ৮টা ৪২ মিনিটে হোয়াইটফিল্ড স্টেশন ছাড়ে বিশেষ কোচ সংবলিত মেট্রো। ঠিক এক ঘণ্টা ছয় মিনিট পরে, অর্থাৎ রাত ৯টা ৪৮ মিনিটে ট্রেন পৌঁছয় রাজারাজেশ্বরী নগর মেট্রো স্টেশনে। সেখান থেকে ফের ২.৫ কিমি গ্রিন করিডর ব্যবহার করে পৌঁছে দেওয়া হয় স্পর্শ হাসপাতালে। রাত গভীর হতেই সম্পন্ন হয় অঙ্গ প্রতিস্থাপন। জানা গিয়েছে, ওই লিভারটি প্রতিস্থাপিত হয়েছে এক ২৪ বছর বয়সি যুবকের দেহে।

আরও পড়ুনঃ Weather: সপ্তাহজুড়ে রাজ্যে বৃষ্টির ছড়াছড়ি, উত্তরবঙ্গে দুর্যোগ, দক্ষিণেও ফের বর্ষার ছাপ

এর আগেও একবার এমন ঘটনা ঘটেছে, তবে সেবার হায়দরাবাদে। গত ১৮ জানুয়ারি হায়দরাবাদ মেট্রোতে গ্রিন করিডর পদ্ধতিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ব্রেন ডেথ হওয়া এক যুবকের হৃদপিণ্ড। এলবি নগরের একটি হাসপাতাল থেকে লকডিকাপুলের অন্য এক হাসপাতালে পৌঁছয় ওই হৃদযন্ত্র। এবার বেঙ্গালুরু ফের সেই নজির গড়ে দেখাল, প্রমাণ করল—মানবিক প্রয়োজনে প্রযুক্তি কীভাবে পাশে দাঁড়াতে পারে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles