ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনার আবহে গত বছরের মে মাসে চার দিনের এক তীব্র সংঘর্ষের সাক্ষী ছিল দুই দেশ। ঘটনার সূত্রপাত পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পর, যখন সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলিতে ভারতীয় বাহিনী হামলা চালায়। যদিও প্রথম পর্যায়ে পাকিস্তানের কোনও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করা হয়নি, ভারতের অভিযানের পরই পাকিস্তানি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। সেখান থেকেই শুরু হয় এক কৌশলগত বিমানযুদ্ধ, যা পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত হয়।
শনিবার বেঙ্গালুরুতে এক অনুষ্ঠানে বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিংহ এই অভিযানের কিছু অপ্রকাশিত তথ্য সামনে আনেন। তাঁর কথায়, ওই অভিযানে অন্তত পাঁচটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান এবং একটি বড় সামরিক পরিবহণ বিমান ধ্বংস করা হয়েছিল। এই তথ্য ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতি পরবর্তী সময়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসে। তিনি আরও জানান, প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানা হয়েছিল, যা ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য একটি বিরল কৃতিত্ব।
এই পুরো অভিযানে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘এস-৪০০’ ব্যবহৃত হয়েছিল, যা রাশিয়ার তৈরি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ—বিশেষত যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ভারতীয় অস্ত্র কেনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগ করছে। তা সত্ত্বেও ভারত এই উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পাকিস্তানের বিমান ধ্বংস করে কৌশলগত ক্ষমতার এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।
বায়ুসেনা প্রধান জানান, পাকিস্তানের জাকোবাবাদ সামরিক ঘাঁটিও আক্রমণের মুখে পড়েছিল। সেখানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারের অর্ধেক ধ্বংস হয়, যা থেকে স্পষ্ট যে ওই ঘাঁটির ভেতরে রাখা বেশ কিছু বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। উল্লেখ্য, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান আমেরিকা থেকে কেনা, এবং ১৯৯৪ সালে বিল ক্লিন্টন প্রশাসনের সময় পাকিস্তানের সঙ্গে এই চুক্তি হয়।
আরও পড়ুনঃ Election Clash: ভোটের আগে নবান্ন-কমিশন যুদ্ধ চরমে চার অফিসারের সাসপেনশন ঘিরে তুঙ্গে টানাপোড়েন!
‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধু পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভারতীয় বায়ুসেনার কৌশলগত দক্ষতা, দূরপাল্লার হামলার ক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। সংঘর্ষবিরতির পর এই প্রথম এত বড় মাপের বিমানযুদ্ধের তথ্য প্রকাশ্যে আসায়, দুই দেশের মধ্যকার নিরাপত্তা ও সামরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।






