Election Clash: ভোটের আগে নবান্ন-কমিশন যুদ্ধ চরমে চার অফিসারের সাসপেনশন ঘিরে তুঙ্গে টানাপোড়েন!

রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের তপ্ত হাওয়া বইছে। ভোটের মুখে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সম্পর্কের সমীকরণ যেন আরও জটিল আকার নিচ্ছে। চারজন অফিসারকে সাসপেন্ড করার কমিশনের নির্দেশের পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর অফিসারদের বিরুদ্ধে এমন কোনও পদক্ষেপ নবান্ন নেবে না। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার পরিষ্কার করেছেন, নির্বাচন কমিশন (Election Commission) যাদের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের সুপারিশ করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তাঁর মতে, রাজ্য সরকার কমিশনের নির্দেশ মানতে বাধ্য নয়। অন্যদিকে কমিশনও সমান কড়া অবস্থানে থেকে শুক্রবার মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে পুনরায় চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, সোমবার বিকেল ৩টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

কমিশন সূত্রের দাবি আরও চাঞ্চল্যকর। এই চার অফিসারের সাসপেনশনের নির্দেশ নাকি স্রেফ উদাহরণ। ভোটার তালিকায় ফর্ম নম্বর ৬-এর আবেদন নিষ্পত্তিতে একাধিক বিধানসভায় অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। কমিশন অন্তত ২৫ জন ইআরও (ERO) ও সহকারী ইআরও (AERO)-কে চিহ্নিত করেছে, যাঁদের মধ্যে অনেকেই ডব্লিউবিসিএস এক্সিকিউটিভ অফিসার। এই অফিসারদেরও আগেই সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁরা নির্দেশ উপেক্ষা করেছেন।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১২ সালের সংশোধনের পর জন প্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, কমিশনের ডেপুটেশনে থাকা রাজ্য কর্মচারীরা কমিশনের অধীনেই পড়েন। ফলে কমিশন চাইলে সরাসরি তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, এমনকি এফআইআরও দায়ের করতে পারে। কমিশনের যুক্তি, ভোটের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে হয়, তাই কোনও টালবাহানা বরদাস্ত করা যায় না। সূত্র অনুযায়ী, নবান্ন ইতিমধ্যেই অসহযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ RG KAR case: তিলোত্তমার রাত দখল আন্দোলন কি সত্যিই থিতিয়ে পড়েছে? কী বিস্ফোরক বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা!

এখন নজর সোমবারের দিকে, যখন কমিশনের দেওয়া সময়সীমা শেষ হবে। নবান্ন যদি এই চার অফিসারের—দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, তথাগত মণ্ডল, বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস—বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সংঘাত আরও তীব্র হবে। এছাড়াও ক্যাজুয়াল ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিত হালদারের বিরুদ্ধেও এফআইআরের সুপারিশ হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, পদক্ষেপ না হলে রাজ্য সরকার ও কমিশনের সংঘাত নতুন মাত্রা পাবে।

RELATED Articles