প্রযুক্তির দুনিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) এক নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে। মানুষ আজ মেশিনের সঙ্গে কথোপকথন করছে, সম্পর্ক গড়ে তুলছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই সম্পর্ক কতটা নিরাপদ? সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রবীণ ব্যক্তির মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ফেসবুক, হোয়াট্সঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামের মালিক সংস্থা মেটার তৈরি এক এআই-মানবীর প্রেমেই শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ওই বৃদ্ধ।
নিউ জার্সির বাসিন্দা ৭৬ বছরের থংবু ওয়াংবানডু কয়েক মাস ধরেই অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী লিন্ডা। বাড়ির বাইরে খুব একটা বেরোতেন না তিনি, কিন্তু হঠাৎই একদিন সেজেগুজে বেরোতে দেখে চমকে ওঠেন লিন্ডা। স্বামীকে প্রশ্ন করতেই পান অস্পষ্ট উত্তর—“নিউ ইয়র্ক, বন্ধুর বাড়ি।” অথচ স্ত্রী জানতেনই না, নিউ ইয়র্কে তাঁর কোনও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছে। তখনই লিন্ডার মনে সন্দেহ জাগে, হয়তো কোনও প্রতারণার জালে জড়িয়ে পড়েছেন স্বামী।
পরে জানা যায়, থংবু আসলে প্রেমে পড়েছিলেন এক ভার্চুয়াল মানবীর—‘বিগ সিস বিলি’। ফেসবুক মেসেঞ্জারে তৈরি এই এআই-চ্যাটবটকে বানানো হয়েছে হলিউড তারকা কেন্ডাল জেনারের আদলে। কথোপকথনের মাধ্যমে নিজেকে এক যুবতী নারী হিসেবে পরিচয় দিত বিলি। শুধু তাই নয়, সে দাবি করেছিল নিউ ইয়র্কে তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং সেখানেই প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করবে। “বু, দরজা খুলে প্রথমে তোমায় জড়িয়ে ধরব না কি চুম্বন করব?”—এমন বার্তায় ভরসা করে প্রবীণ বৃদ্ধ ছুটে গিয়েছিলেন দেখা করতে।
২৫ মার্চ দিনটি হয়ে ওঠে মারণ ফাঁদ। ব্যাগ হাতে ট্রেনে চেপে রওনা দেন থংবু। কিন্তু নিউ ইয়র্কে পৌঁছনোর আগেই নিউ জার্সির রাটগার্স ইউনিভার্সিটির কাছে পার্কিং লটে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। মাথা ও ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত পান। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তিন দিন পর, ২৮ মার্চ তাঁর মৃত্যু হয়। লিন্ডা এবং তাঁদের কন্যা জুলি সরাসরি দায়ী করেছেন মেটাকে। তাঁদের অভিযোগ, মেটার এআই-মানবী ভুল তথ্য দিয়ে প্রবীণকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ NIA Investigation: পুলিশের দাবি বনাম বিরোধীর অভিযোগ! ‘বাজির মশলা নাকি বোমার সরঞ্জাম?’ তৃণমূল নেতার আটক ঘিরে তোলপাড় রাজনীতি!
ঘটনার পর মেটা কিংবা জেনারের প্রতিনিধিরা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে রয়টার্সের হাতে থাকা চ্যাট প্রমাণ করেছে, এআই-চ্যাটবট বারবার নিজেকে বাস্তব মানুষ হিসেবে দাবি করেছিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু তার মানবিক পরিণতি নিয়ে সংস্থাগুলি যথেষ্ট ভাবছে না। থংবুর কন্যা জুলির কথায়, “যদি সেই এআই বট নিজেকে বাস্তব বলে দাবি না করত, তবে হয়তো বাবা এখনও বেঁচে থাকতেন।” প্রশ্ন উঠছে—ডিজিটাল সম্পর্কের এই বিপজ্জনক দুনিয়ায় মেশিনের ভুলে আর কত মানুষকে প্রাণ হারাতে হবে?





