ভোটের আবহ যত ঘনাচ্ছে, ততই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট ছোট ঘটনাও বড় রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, সরকারি সুবিধা পাওয়া বা না পাওয়ার মতো বিষয় এখন সরাসরি রাজনৈতিক মঞ্চে উঠে আসছে। দুর্গাপুর পূর্বেও ঠিক তেমনই এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। আবাস যোজনার ঘর না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ, যা এখন ভোটের প্রচারের বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত দুর্গাপুরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শোভাপুর গ্রামের বাসিন্দা সমীর গোপকে ঘিরে। স্থানীয়ভাবে তিনি বিজেপি কর্মী হিসেবেই পরিচিত। তাঁর পরিবারের বসবাসের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়, কাঁচা বাড়ি, মাথার ওপর টালির বদলে প্লাস্টিকের ছাউনি, বৃষ্টি হলেই জল চুঁইয়ে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি এলে বাড়ির ভিতরে আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। বহুদিন ধরেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন তিনি। প্রশ্ন উঠছে, এতদিনেও কেন সরকারি আবাসের সুবিধা পাননি তিনি?
সমীর গোপের দাবি, আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার জন্য একাধিকবার আবেদন করেছিলেন তিনি। প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্রও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তবুও তাঁর নাম তালিকায় ওঠেনি। বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে আবেদন জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র বিজেপি করার কারণেই তাঁকে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি সব নিয়ম মেনেই আবেদন করেছি, কিন্তু কোনও কারণ ছাড়াই আমার নাম বাদ পড়েছে। আমি বিজেপি করি বলেই আমাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করেই প্রচারে নেমেছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, বেছে বেছে বিজেপি সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, আগে এই ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব দেখা যেত না, কিন্তু এখন আবাস যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পেও বৈষম্য করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থে চলা প্রকল্পে স্থানীয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তক্ষেপ করছে এবং বিরোধী সমর্থকদের বঞ্চিত করছে।
আরও পড়ুনঃ পর্ণশ্রীতে বিজেপি অফিস ভা*ঙচুর! তৃণমূলের ছত্রছায়াতেই কি এই তাণ্ডব? নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR, ভোটের আগে বিরোধী দমনেই কি এই হামলা?
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সরকারি সুবিধা দেওয়া বা না দেওয়া সরকারের নীতি নয়। তিনি পালটা অভিযোগ করে বলেন, রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ কেন্দ্র আটকে রাখছে, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই বাড়ছে, আর ভোটের মুখে দুর্গাপুর পূর্ব এখন হয়ে উঠেছে আরেকটি উত্তপ্ত কেন্দ্র।





