ফের পথকুকুরের আক্রমণ, কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রীর উপর কুকুরের হানা, মুখে পড়ল ১৭টি সেলাই

কলেজ শেষে প্রতিদিনের মতোই বাড়ি ফিরছিলেন এক ছাত্রী। হঠাৎই স্বাভাবিক দিনটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় বদলে গেল। কয়েকটি পথকুকুরের আক্রমণে গুরুতরভাবে আহত হলেন তিনি। চিৎকার-চেঁচামেচিতে এলাকা জুড়ে ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, মেয়েটির মুখে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুকুরের কামড়ের দাগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গালে গভীর ক্ষত তৈরি হয়, যা চিকিৎসকদের মতে ভয়াবহ ছিল। অবস্থা এতটাই গুরুতর হয় যে তাঁর মুখে একাধিক সেলাই দিতে হয়।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। আক্রান্ত ছাত্রীর নাম বৈষ্ণবী সাহু, তিনি বিবিএ পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময় কয়েকটি কুকুর একদল বাঁদরকে তাড়া করছিল। আচমকাই বৈষ্ণবী সামনে পড়ে যান এবং তিনটি কুকুর তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছটফট করতে করতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, আর তখনই মুখে, শরীরে কামড় বসাতে থাকে কুকুরগুলি।

স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। বৈষ্ণবীর পরিবার তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর গালের ডান দিকে ক্ষত এতটাই গভীর ছিল যে গাল প্রায় দু’ভাগ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, নাক এবং শরীরের একাধিক জায়গায়ও কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকেরা জানান, মোট ১৭টি সেলাই পড়েছে তাঁর মুখে।

আরও পড়ুনঃ West Bengal: পশ্চিমবঙ্গে ১৪ হাজার নতুন বুথ, ভোটারদের জন্য সুবিধা নাকি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সূচনা?

ঘটনার পর বৈষ্ণবীর কাকা আশুতোষ বলেন, “কলেজ থেকে ফেরার পথে ভাইঝির উপর হামলা চালায় কয়েকটি কুকুর। তার গালে গভীর ক্ষত হয়েছে। ১৭টি সেলাই পড়েছে, পাশাপাশি শরীরের আরও কয়েকটি জায়গায় কামড় লেগেছে।” এই ঘটনাটি নতুন করে পথকুকুর নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিতর্ককে আরও উসকে দিল। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট পথকুকুরদের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, কুকুরদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে বন্ধ্যাত্বকরণ ও প্রতিষেধক দেওয়ার পর আবার এলাকায় ফিরিয়ে দিতে হবে। তবে যারা র‌্যাবিসে আক্রান্ত বা অতিরিক্ত আগ্রাসী স্বভাবের, তাদের আশ্রয়কেন্দ্রেই রাখতে হবে। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, আদালতের নির্দেশ কার্যকর না হলে এমন ভয়াবহ আক্রমণ কি বারবার ঘটতেই থাকবে?

RELATED Articles