US india relation : ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হল ভারত! তবে কি পাকিস্তান সংঘাতে মধ্যস্থতা না দেওয়ায় হঠাৎ চাপানো ৫০% শুল্ক?

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্বাভাবিক খবর ছড়িয়েছে, ভারতের বাজারে একাধিক পণ্যের ওপর হঠাৎ করে বিপুল শুল্ক আরোপের ফলে ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। সাধারণ মানুষও শোনা-সোনা গুঞ্জন নিয়ে বিভ্রান্ত। তবে বিষয়টি যে শুধুই বাণিজ্যিক নয়, তা প্রতীয়মান হচ্ছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের আলোকে।

জেফরিস নামক মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক এবং আর্থিক পরিষেবা সংস্থার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের ওপর এই শুল্ক আরোপের পেছনে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সংঘর্ষে মধ্যস্থতার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিবেচনা করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ, ভারত কোনো বিদেশি মধ্যস্থতাকে স্বীকার করে না এবং ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী এটি তাঁর জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে কাজ করেছে।

ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রেক্ষাপটও এখান গুরুত্বপূর্ণ। গত এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গিদের গুলিতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বেশ কিছু জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। এরপর সীমান্তবর্তী এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর মধ্যস্থতায় পারমাণবিক যুদ্ধ ঠেকানো সম্ভব হয়েছে, ভারতের সরকারি পক্ষ এই দাবি অস্বীকার করেছে। দিল্লি জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি দুই দেশের সেনা কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে হয়েছে, কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন ভারতের পণ্যের ওপর প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতীয় তেল ক্রয় অব্যাহত রাখার কারণে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। এই শুল্কের কারণে ভারতীয় রফতানি প্রভাবিত হচ্ছে, বহু পণ্যের বরাত বাতিল হচ্ছে এবং বাণিজ্যে বড় ধাক্কা পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ BJP – congress : ‘কংগ্রেস দেশে ঘৃণার রাজনীতি শুরু করেছে’— প্রধানমন্ত্রীর মা’কে নিয়ে কুকথা ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ অমিত শাহের, উত্তপ্ত বিহার রাজনীতি!

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নয়, কৃষি ও বাণিজ্যকেও শুল্ক আরোপের পেছনে প্রভাব ফেলেছে। ভারতের কৃষি খাতকে উন্মুক্ত না করার নীতি, মার্কিন সঙ্গে বাণিজ্যিক চাপ তৈরি করেছে। তবে এই শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি ও স্ট্র্যাটেজিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর