Rape case : ‘আরজি কর করে দেব’— ১৯ বছরের তরুণীকে রাতের অন্ধকারে ধর্ষ*ণ, আতঙ্কে গৃহবন্দি পরিবার!

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মহিলা সুরক্ষার জন্য একের পর এক উদ্যোগ নেওয়া হলেও অপরাধ যেন থামছেই না। কখনও দিনের আলোয়, কখনও আবার গভীর রাতে নৃশংসতার শিকার হচ্ছেন সাধারণ তরুণীরা। পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাঁচার স্বপ্ন মুহূর্তে ভেঙে যাচ্ছে কয়েকজন দুষ্কৃতীর হাতে। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে, যেখানে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে মাত্র ১৯ বছরের এক তরুণীকে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাতের অন্ধকারে চিলেকোঠা দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে দুই যুবক। অভিযোগ অনুযায়ী, তরুণীর মা পাশের ঘরে থাকলেও কিছুই করতে পারেননি, কারণ ঘরের বাইরে থেকে ছিটকিনি আটকে দেওয়া হয়েছিল। একা ঘুমিয়ে থাকা মেয়ের ঘরে ঢুকেই মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। তরুণীর গায়ে আঁচড়ের চিহ্ন এবং ক্ষতের দাগ এখনও রয়েছে।

এখানেই শেষ নয়,অভিযোগকারিণীর দাবি নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা পালানোর আগে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়। এমনকি বলে যায়— “বেশি বাড়াবাড়ি করলে আরজি করের ঘটনা ঘটিয়ে দেব।” উল্লেখ্য, এর আগে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা গোটা রাজ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। সেই ঘটনাকে টেনে এনে তরুণীকে ভয় দেখানোর অভিযোগে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে দত্তপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্ত সঞ্জয় দাসকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে অপর যুবক শুভ সাহা এখনও পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছেন বারাসতের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস। পরিবার সূত্রে অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে লাগাতার হুমকি পাচ্ছেন তারা। ভয়ে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন তরুণী ও তাঁর মা।

আরও পড়ুনঃ West Bengal : চাকরি হারালেও শেষ নয় লড়াই! গ্রুপ সি পদে নতুন সুযোগের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, এত সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল। বারাসত পুলিশ জেলার উদ্যোগে পিঙ্ক মোবাইল ভ্যান থেকে উইনার্স টিম গঠন করা হলেও রাতে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রতিবেশীরা। মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে নির্যাতিতার মা বলেন, “ঘর আটকে রাখায় আমি কিছুই করতে পারিনি। এখন তো গ্রামছাড়া করারও হুমকি দিচ্ছে।” গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ, তবে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে ফের একবার প্রশ্ন উঠছে— নিরাপদ কি সত্যিই আমাদের বাড়ির চার দেওয়াল?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles