পুজো মানেই শুধু ঠাকুর দেখা নয়, বাঙালির কাছে এই সময়টা একেবারে পেটপুজোরও মরসুম। ষষ্ঠী থেকে দশমী, সকালের ভোগ থেকে রাতের আড্ডা—সব জায়গাতেই খাওয়ার তালিকা তৈরি থাকে আগেভাগেই। লুচি, ছোলার ডাল, খিচুড়ি, পোলাও, চাটনি, পায়েস—সবকিছুই থাকে প্ল্যানের মধ্যে। তবে এ বছর যদি একটু চমক দিতে চান পরিবারের সদস্যদের কিংবা অতিথিদের, তাহলে মেনুতে রাখুন একেবারে অন্যরকম এক পদ—মোচার পাতুরি। নাম শুনেই হয়তো ভাবছেন, পাতুরি মানেই তো ইলিশ বা ভেটকি? কিন্তু বিশ্বাস করুন, মোচা দিয়েও এমন এক পাতুরি বানানো যায়, যার স্বাদ একবার মুখে গেলে আর ভোলা যায় না।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইলিশ পাতুরি বা ভেটকি পাতুরি আমাদের রান্নাঘরে জায়গা করে নিয়েছে। নিমন্ত্রণবাড়িতে গেলেও প্রায়শই দেখা মেলে এই দুই পাতুরির। কিন্তু একসময় মা-ঠাকুমারা মোচার পাতুরি বানাতেন ঘরোয়া স্বাদে। খুব বেশি উপকরণ লাগত না, আবার রান্নাটাও ছিল সহজ। অথচ স্বাদে এটি একেবারেই কম যেত না মাছের পাতুরির কাছে। বরং যারা নিরামিষপ্রেমী, তাদের কাছে তো মোচার পাতুরিই ছিল সেরা। তাই পুজোর দিনে ভাতের সঙ্গে একবার যদি গরম মোচার পাতুরি মেখে খান, দেখবেন অন্য সব পদ যেন হার মেনে যায়।
এবার আসি রেসিপির কথায়। প্রথমেই যা লাগবে—২ কাপ কুচোনো মোচা। সঙ্গে নেবেন আধ মালা কোরানো নারকেল, সরষেবাটা ২ চা চামচ, ২–৩টি কাঁচালঙ্কা, নুন-মিষ্টি স্বাদমতো, সামান্য তেল আর একটা বড়ো কলাপাতা। রান্না শুরুর আগে মোচা ভালো করে সেদ্ধ করে নিন। তারপর নারকেল, সরষে আর কাঁচালঙ্কা একসঙ্গে বেটে নিন মসৃণ করে। এবার সেদ্ধ মোচার সঙ্গে এই বাটা মশলা মিশিয়ে নিন ভালো করে। চাইলে একটু সরষের তেল মেশাতে পারেন বাড়তি ঘ্রাণের জন্য।
এবার কলাপাতাটা হালকা গরম করে নিন চুলোর ওপরে, যাতে সহজে মুড়তে সুবিধা হয়। সেই পাতার মধ্যে এক চামচ করে মোচার মিশ্রণ দিয়ে প্যাকেটের মতো মুড়ে নিন। চাইলে সুতো দিয়ে বেঁধেও নিতে পারেন। এরপর কড়াইতে সামান্য তেল দিয়ে পাতার মোড়কগুলো হালকা আঁচে রাখুন। ঢাকা দিয়ে দিন, মাঝে মাঝে উলটে দিন যেন দুই দিকই ভালো করে সেঁকে যায়। যখন দেখবেন পাতার রং লালচে হয়ে এসেছে, তখন নামিয়ে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন সুগন্ধি মোচার পাতুরি।
আরও পড়ুনঃ Recipe: অষ্টমীর দুপুরে কি ভালোমন্দ রাঁধবেন বুঝতে পারছেন না? সহজ উপায়ে চটজলদি বানিয়ে ফেলুন নিরামিষ ধোঁকার ডালনা! জমে যাবে ভোজ
শেষে একটা কথা বলা দরকার—পুজোর খাওয়াদাওয়ায় আমরা সাধারণত ভারী মাংস বা মাছের পদই বেশি রাখি। কিন্তু এই মোচার পাতুরি একেবারে অন্যরকম স্বাদ এনে দেয়। এতে যেমন ঐতিহ্যের ছোঁয়া আছে, তেমনই আছে নিরামিষ রান্নার সহজ স্বাদ। ভাতের সঙ্গে খেলে বোঝাই যাবে না যে মাছ নেই, আর যারা নিরামিষ খান, তাঁদের জন্য তো এটি একেবারে আদর্শ। তাই এ বছর পুজোর মেনুতে একবার মোচার পাতুরি রাখুন, দেখবেন অতিথিদের প্রশংসা শেষ হতে চাইবে না।






