ড্রাইভারের চক্রান্তে ১২ লাখ টাকার জালিয়াতি! ফারহান আখতারের পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা, গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত

বলিউড অভিনেতা ও পরিচালক ফারহান আখতারের পরিবারে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য জালিয়াতির ঘটনা। বিশ্বাসের সম্পর্কের আড়ালে যে এত বড় প্রতারণা লুকিয়ে থাকতে পারে, তা কেউ ভাবতেও পারেননি। ফারহানের মা, চিত্রনাট্যকার হানি ইরানি জানতে পারেন, তাঁর নিজের গাড়ির চালকই নাকি তাঁকে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে ফেলেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চালক নরেশ সিং এবং এক পেট্রোল পাম্প কর্মী অরুণ সিং মিলে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার জ্বালানি জালিয়াতি করেছেন।

ঘটনাটি সামনে আসে ১ অক্টোবর, যখন হানির ম্যানেজার দিয়া ভাটিয়া নিয়মিত হিসেবপত্র যাচাই করছিলেন। তখনই তিনি লক্ষ করেন, হানি ইরানির মারুতি গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্কের ধারণক্ষমতা মাত্র ৩৫ লিটার, অথচ রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে— সেখানে ৬২১ লিটার ডিজেল ভরার হিসেব দেখানো হয়েছে! প্রথমে এটি সফটওয়্যারের ত্রুটি ভেবে নেওয়া হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি সন্দেহজনক বলে মনে হয়।

ম্যানেজার দিয়া যখন নরেশের কাছে এই অসঙ্গতি নিয়ে জানতে চান, তাঁর উত্তর ছিল অস্পষ্ট এবং এড়িয়ে যাওয়ার মতো। আরও তদন্ত চালিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন, নরেশ তিনটি ফুয়েল কার্ড ব্যবহার করেছেন— সবকটিই ফারহানের বাবা, প্রখ্যাত গীতিকার জাভেদ আখতারের নামে নিবন্ধিত। শুধু তাই নয়, দেখা যায়, সাত বছর আগে বিক্রি হয়ে যাওয়া একটি পুরনো গাড়ির জন্যও নিয়মিতভাবে জ্বালানি কেনা দেখানো হয়েছে। এই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুরো চিত্রটাই স্পষ্ট হয়ে যায়।

নরেশ পরে স্বীকার করেন, ২০২২ সালে তিনি ফারহানের প্রাক্তন ড্রাইভার সন্তোষ কুমারের কাছ থেকে ওই তিনটি কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর থেকেই বান্দ্রা লেক সংলগ্ন এসভি রোডের একটি পেট্রোল পাম্পে নিয়মিত “ফুয়েল সোয়াইপ” করতে শুরু করেন। কিন্তু বাস্তবে গাড়িতে তেল ভরা হতো না। সেই সোয়াইপের টাকাই ভাগ হয়ে যেত— পাম্পের কর্মী অরুণ সিং ও অন্যদের হাতে, আর নরেশ নিজের কমিশন হিসেবে পেতেন প্রতিবারে এক থেকে দেড় হাজার টাকা।

এই প্রতারণা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল বলে অনুমান পুলিশের। হানি ইরানি বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে বান্দ্রা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা) ও ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ) ধারায় মামলা রুজু করেছে। অভিযুক্ত নরেশ সিং ও অরুণ সিংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “ভারত আমার মাতৃভূমি, পাকিস্তান ….”— নাগরিকত্ব বিতর্কে খোলামেলা দানিশ কানেরিয়া

 

এই ঘটনার পর বলিউডে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ফারহান আখতারের পরিবার যেভাবে এক সাধারণ ড্রাইভার ও পেট্রোল পাম্প কর্মীর ষড়যন্ত্রে প্রতারিত হয়েছেন, তা অনেকের কাছেই সতর্কবার্তা। বিশ্বাসযোগ্য কর্মচারীরাও যে কখনও কখনও ভয়ংকর জালিয়াতির অংশ হয়ে উঠতে পারে— এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles