Sheikh Hasina: দেশ ছাড়ার এক বছর পর মুখ খুললেন শেখ হাসিনা! দিল্লিতে স্বাধীন জীবন, আর কি কখনও বাংলাদেশে ফিরবেন না মুজিবকন্যা?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি এক দীর্ঘ অধ্যায়ের নাম। প্রায় দেড় দশক ধরে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নেই নিজের দেশে। কোথায় তিনি, কেমন আছেন, দেশে ফিরবেন কি না—এই প্রশ্নেই সরগরম বাংলাদেশের রাজনীতি। অবশেষে মুখ খুললেন শেখ হাসিনা নিজেই। দিল্লিতে রয়েছেন তিনি, এবং স্বাধীনভাবেই থাকছেন—এই তথ্য জানিয়ে নতুন করে আলোচনায় ফিরলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

২০২৪ সালের ৫ অগস্ট—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অস্থির দিন। ছাত্র আন্দোলনের দাবানলে জ্বলছিল পুরো দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘রাজাকার’ মন্তব্যে উত্তাল পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে দেখা যায়, সেনার একটি হেলিকপ্টারে চেপে দেশ ছাড়ছেন তিনি। যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেও ইস্তফা দেন। সেই থেকেই বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। তবে এক বছর কেটে গেলেও তিনি প্রকাশ্যে আসেননি, যা নিয়ে দেশজুড়ে নানা জল্পনা চলছিল।

সম্প্রতি তিনটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ইমেইল মারফত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, দিল্লিতে থাকলেও তিনি পুরোপুরি স্বাধীন। তবে তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছা এখনও অটুট। যদিও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যদি বাংলাদেশে কোনও সরকার গঠিত হয় বা নির্বাচন হয়, সেই সরকারের অধীনে তিনি দেশে ফিরবেন না। তাঁর বক্তব্য, “আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা শুধু অনৈতিক নয়, এটি আত্ম-পরাজয়ও।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগকে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। হাসিনা দাবি করেছেন, লক্ষ লক্ষ সমর্থক এর প্রতিবাদে ভোট বর্জন করবেন। তাঁর মতে, “রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে হলে জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। লক্ষ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে কোনও সরকার বৈধ হতে পারে না।” এভাবেই তিনি নিজের দলের প্রতি নিষেধাজ্ঞাকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুনঃ Doctor harra*sment : আরজি করের পর এবার কলকাতা মেডিক্যাল! হাসপাতালে মদ্যপ রোগীর কুকীর্তি, নিরাপত্তাহীনতায় ক্ষুব্ধ ইন্টার্ন ও চিকিৎসক সমাজ!

দেশ ছাড়ার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, সেই সময় দেশে থাকা একেবারেই অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। তাঁর কথায়, “থেকে গেলে আমার জীবন যেমন ঝুঁকিতে পড়ত, আশপাশের মানুষদের জীবনও বিপদে পড়ত।” বর্তমানে তিনি আশা রাখছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে এবং বৈধ সরকারের অধীনে তিনি নিজের দেশে ফিরতে পারবেন। তাঁর এই মন্তব্যে ফের আলোড়ন ছড়িয়েছে ঢাকা থেকে দিল্লি পর্যন্ত—কারণ এখন প্রশ্ন একটাই, শেখ হাসিনা কি আদৌ আর ফিরবেন নিজের মাতৃভূমিতে?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর