রাজ্যকে ডিঙিয়ে করোনা তথ্য সংগ্রহ করতে অ্যাপ আনছে কেন্দ্রীয় সরকার, সরাসরি যোগাযোগ করা হবে চিকিৎসকদের সঙ্গে

এ যেন ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া কান্ড। করোনা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য রাজ্য সরকারের ওপর ভরসা না করে এবার সরাসরি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেজন্য একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনও তৈরি করে ফেলেছে তারা। তাতে করোনা মোকাবিলায় যুক্ত সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসক নানা তথ্য পূরণ করবেন। সেই তথ্য একই সঙ্গে পৌঁছে যাবে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে। 

ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের সঙ্গে একযোগে এই অ্যাপ তৈরি করেছে ICMR। RT-PCR নামক এই অ্যাপের মাধ্যমে একদম প্রাথমিক স্তর থেকে করোনার তথ্য জোগাড় করতে নামছে কেন্দ্রীয় সরকার। 

কী কাজ করবে এই নতুন অ্যাপ?

নতুন এই অ্যাপে সন্দেহভাজন করোনা রোগী ও পজিটিভ করোনা রোগীদের তথ্য পূরণ করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেই তথ্য পৌঁছে যাবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। এই অ্যাপের মাধ্যমেই তাঁরা জানতে পারবেন নমুনা পরীক্ষার ফল। 

স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষরা অবশ্য এই অ্যাপের গুণগান করেছেন‌। পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশ চন্দ্র বেরা জানিয়েছেন, “যাঁরা নমুনা সংগ্রহ করছেন, এই অ্যাপ তাদের সাহায্য করবে। সঙ্গে সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন। এই অ্যাপ নমুনা পরীক্ষার ফল জানতেও সাহায্য করবে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পৌঁছবে একই তথ্য। খুব তাড়াতাড়ি সংক্রমিত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে। সেখানে কাউকে দেখে যদি করোনা পরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপে সেই তথ্য পূরণ করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের জানাতে পারব আমরা।”

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপ্যাল পঞ্চানন কুণ্ডু জানিয়েছেন, “বাইরে থেকে শ্রমিক ও পড়ুয়াদের বাড়ি ফেরা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়েছি। এখন প্রতিদিন ২০০টি নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এই অ্যাপ এলে আমরা প্রতিদিন ৩০০ নমুনা পরীক্ষা করতে পারব।”

অ্যাপটি কী করে ব্যবহার করতে হবে তা জানাতে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবে কেন্দ্র।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্য পশ্চিমবঙ্গই করোনা  নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিচ্ছে। তাই এই অ্যাপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এড়িয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্যই বানানো হয়েছে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

সম্প্রতি রাজ্য পরিদর্শনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে করোনার তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছিল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল। তাদের দাবি, রাজ্য সরকার করোনা আক্রান্ত ও মৃতের যে তথ্য দিচ্ছে তা নির্ভরযোগ্য নয়। হাতে লেখা কাগজে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। যাতে কারচুপির সম্ভাবনা রয়েছে।

RELATED Articles

Leave a Comment