দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা বাড়ল ৪,১২৩ জন। সংখ্যাটা এখনো পর্যন্ত একদিনের নিরিখে সর্বোচ্চ সংক্রামিতের সংখ্যা। যার ফলে মোট সংক্রামিতের সংখ্যা প্রায় ৭০,০০০ এর কাছে গিয়ে দাঁড়াল। কিন্তু এখনও তা করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আশার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ একদিকে যেমন সংক্রামিতের সংখ্যা বেড়েছে অন্যদিকে তেমন সুস্থ হয়ে ওঠার হারও বাড়ছে।
এখনও বিশ্বের প্রায় ৩৫ শতাংশ করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছেন। তাঁদের প্রায় প্রত্যেকের শরীরেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে তাঁদের সুরক্ষা দেয়। বিশ্বের পরিসংখ্যানের নিরিখে ভারতে আক্রান্তদের সুস্থ হয়ে ওঠার হারও কিন্তু একই। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত ভারতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭,১৫২। তাঁদের মধ্যে কমপক্ষে ৪৪,০০০ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পাশপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১,৫৫৯জন।
কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০ই এপ্রিল সুস্থ হয়ে ওঠার হার ছিল ১০.৩ শতাংশ যা এক মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১.২ শতাংশ। তাতে অবশ্য আশাহত হয়ে পড়েনি কেন্দ্র সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল বলেন, ‘দেশে সুস্থ হয়ে ওঠার রোগীদের সংখ্যা বিচার করলে বোঝা যাচ্ছে দেশে প্রতি তিনজনে একজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আর ভারতের ক্ষেত্রে এটা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। রোজ যেভাবে সংক্রমনের সংখ্যা বাড়ছে তাতে সুস্থ হওয়ার হারও বাড়াচ্ছে।’
কেন্দ্র সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও দুই গুণ হতে অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশিদিন সময় লেগেছিল। এমনকি লকডাউন জারি হওয়ার আগে যেখানে ৩.৪ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছিল, লকডাউনের পরে তা ১২ দিনে হয়। গত ৩ মে দ্বিগুণ হওয়ার হার ছিল ১১.৫ দিন। কিন্তু গত তিন দিনে আচমকাই আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে ১০,০০০ বেড়ে যাওয়ায় রবিবারে দ্বিগুণ হওয়ার হার ১১.৫ দিন থেকে কমে ১০.৬ দিন হয়।
এই খবরে খুব একটা বিচলিত নন বিশেষজ্ঞরা। কারণ করোনাতে মৃত্যু অপেক্ষা সুস্থ হয়ে ওঠার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতে প্রতি ১০ জন সংক্রামিতের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হচ্ছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সংখ্যাটা একটু বেড়ে যায়, তখন দু’জনের মৃত্যু হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান যুগল কিশোর বলেন, ‘কিছুক্ষণের জন্য করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে চলবে সুস্থ হয়ে ওঠার হারও। কারণ যতক্ষণ না পর্যন্ত মানবদেহে এই ভাইরাসের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা ছড়াতে থাকবে। যে কোনও জায়গায় মোট ৩০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে সুস্থ হয়ে ওঠার হার বেশি কারণ ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমণটা সামান্য বা উপসর্গহীন হয়। সুস্থ হয়ে ওঠার হার এটা প্রমাণ করে যে, ভারতীয় জনসংখ্যার মধ্যে মৃত্যুর প্রকোপ বেশি নয়। আমরা সঠিকভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম এবং আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতিও সঠিকভাবে কাজ দিচ্ছে।’






