বাংলাদেশি হিন্দুদের নাগরিকত্ব নিয়ে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে জনসভা থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক নতুন আশ্বাসের বার্তা দিলেন উদ্বিগ্ন মানুষদের উদ্দেশে। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে তিনি দাবি করেন, আবেদন করলেই সিএএ-র মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে একটি বিশেষ মন্তব্য—“বড় গ্যারান্টার নরেন্দ্র মোদী, আর আমরা ছোট গ্যারান্টার।”
মথুরাপুরের সভায় জনতার ভিড়ের মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের ভোটাধিকার নিয়ে আর উদ্বেগের কারণ নেই। তাঁর দাবি, যাঁদের জন্ম ২০০৪ সালের মধ্যে ভারতে, তাঁরা সুরক্ষিত, বাবা-মায়ের জন্ম ২০০৮ পর্যন্ত হলে তাঁরাও নিরাপদ। আর ২০০২ সালের পর যারা এসেছেন, তাদের আবেদন করতে হবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র আওতায়। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই সবার বড় গ্যারান্টার, সঙ্গে আছেন রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব।
এর আগেও বাংলাদেশি হিন্দুদের উদ্দেশে অনুরূপ বার্তা দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর ও সুকান্ত মজুমদার। ঠাকুরবাড়ি থেকে ইতিমধ্যেই ‘মতুয়া কার্ড’ বিতরণের অভিযান শুরু হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মতুয়া সংঘ জানিয়েছে, এই কার্ডের মাধ্যমে আগাম প্রস্তুতি চলছে নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাঁরা বহু বছর ধরে ভারতে আছেন কিন্তু নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায়, তাঁরা সিএএ-এর সুবিধা পাবেন।
শান্তনু ঠাকুর সম্প্রতি বলেন, যদি কারও নাম ভোটার তালিকায় বাদ যায়, তাহলে সিএএ-র মাধ্যমে তা পুনর্বহাল করা সম্ভব। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী আগেই স্পষ্ট করেছেন, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা ভারতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, তাঁদের কাউকে কোথাও পাঠানো হবে না। এই ঘোষণার পর বিজেপি শিবিরে নতুন উদ্দীপনা, বিশেষত সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিজেপির কর্মীরা তা নিয়ে প্রচার শুরু করেছেন।
আরও পড়ুনঃ Ssc : অযোগ্য তালিকায় ৩৫১২ নাম! নতুন নিয়োগে কত শূন্যপদ? এসএসসি-র প্রকাশিত তথ্য ঘিরে তোলপাড় রাজ্যজুড়ে!
তবে এই নিয়ে রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, “CAA ক্যাম্পের ফাঁদে পা দেবেন না।” তাঁর দাবি, আবেদন করলে আসামের মতো বিপদ তৈরি হতে পারে, যেখানে বহু হিন্দু বাঙালিকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হয়েছে। অভিষেক বলেন, তৃণমূল থাকলে কাউকে ভয় পেতে হবে না, কাউকেই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে না। তাই একদিকে বিজেপির আশ্বাস, অন্যদিকে তৃণমূলের সতর্কবার্তা—এই নাগরিকত্ব ইস্যুকে ঘিরেই এখন রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক লড়াই তৈরি হয়েছে।





