অন্ধ্রপ্রদেশের ঘন জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে মাওবাদীদের চলতে থাকা তল্লাশি অভিযানে সিপিআই (মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির তরুণতম সদস্য মাধবী হিডমা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে আলুরি সীতারামরাজু জেলার মারেদুমিল্লির অরণ্যাঞ্চলে একমাত্র তার উপস্থিতির খবর পেয়ে পুলিশ বাহিনী তাড়াতাড়ি অভিযান শুরু করে; দুই পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াইতে হিডমাসহ ছ’জন মাওবাদী মারা যান। মাধবী হিডমা ছিলেন মাওবাদীদের শক্তিশালী কমান্ডার ও দণ্ডকারণ্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ।
তল্লাশি অভিযান সদ্য শেষ হয়নি, বুধবার পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী মারেদুমিল্লির ঘন জঙ্গলে আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, যেখানে আরও সাতজন মাওবাদী নিহত হয়। তাদের মধ্যে তিনজন মহিলা সদস্যও রয়েছেন। সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে সিপিআই (মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক টিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে দেবজি এবং আজাদ থাকতে পারে বলে জানা গেছে। নিহতদের দেহ শনাক্তকরণ ও ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই অভিযান চলছেই, হত্যাকাণ্ডের পরে বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
মাধবী হিডমার মৃত্যু নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে, যিনি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মাওবাদী বিদ্বেষ প্রতিরোধের বড় লক্ষ্য। দেশে মাওবাদী সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত আছে, যা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জোর দিয়ে বলছেন। গত দশ বছরে মাওবাদী সহিংসতায় হাজার হাজার নিরাপত্তারক্ষী এবং সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, এবং বর্তমান অভিযানের মাধ্যমে গোটা সংগঠন দুর্বল গতিতে ঠেকানো হচ্ছে।
এই সব ঘটনার মধ্যে, নিরাপত্তাবাহিনী অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যেমন ড্রোন, হাই-রেঞ্জ ক্যামেরা ও স্নাইপার মোতায়েন করে তল্লাশি চালাচ্ছে। সংঘর্ষে নিহতদের সঙ্গে থাকা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদিও সংখ্যালঘু হয়ে পড়া ও ছিন্নভিন্ন অবস্থায় থাকা এই মাওবাদী গোষ্ঠীর অবশেষ এখনও জঙ্গল গহ্বরে লুকিয়ে রয়েছে, তাদের খোঁজে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে ভাঙন আরও বিচ্ছিন্ন গুলির হাত ধরে আরো বাড়বে।
আরও পড়ুনঃ Surya Nakshatra Parivartan: সূর্যের নক্ষত্র পরিবর্তনে বদলে যাবে ভাগ্য, তিন রাশির জীবনে আসছে সোনালি সুযোগ
এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা চিত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মাধবী হিডমার মতো মূল কমান্ডার এবং তাদের সঙ্গীদের ধাওয়া ও ধ্বংস দেশের মাওবাদী সমস্যা মোকাবেলায় বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তল্লাশি অভিযান এখনো চলমান এবং মাওবাদী শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার মধ্যেই সেনারা সতর্কতার সঙ্গে আগাচ্ছে, যাতে বাকি সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়া থেকে আটকানো যায়।





