West Bengal politics : “বাইরের সংস্থাকে কেন দিচ্ছেন কাজ?” — নির্বাচন কমিশনকে কড়া চিঠিতে মমতার প্রশ্ন, বেসরকারি আবাসনে ভোটকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর!

 রাজ্যে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে অস্বস্তি বাড়ছে। প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু এত কম ব্যবধানে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ফের চিঠি পাঠানোই স্পষ্ট করে দিচ্ছে— বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে চিন্তায় ফেলেছে। বিশেষত, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ থেকে শুরু করে বেসরকারি আবাসনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের মতো সিদ্ধান্ত— দুই ক্ষেত্রেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

চিঠির শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের আগে থেকেই জানানো হয়েছিল যে কোনওভাবেই চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর বা বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের ভোট সম্পর্কিত কাজে ব্যবহারের অনুমতি নেই। এই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ কীভাবে রাজ্যের সিইও অফিস এক হাজার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও ৫০ জন সফ্টওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের প্রস্তাব দিল— সেই প্রশ্নই প্রথমে খাড়া করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পুরো সিদ্ধান্তটাই অস্বাভাবিক এবং ব্যাখ্যাহীন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও কড়া সুরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, কোনও বাইরের সংস্থাকে দিয়ে এমন দায়িত্বপূর্ণ কাজ করানোর প্রয়োজন কেন হল, তার যৌক্তিক কারণ কমিশনের কাছে স্পষ্ট করা জরুরি। মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা— এর নেপথ্যে রাজনৈতিক প্ররোচনা থাকতে পারে। তিনি সরাসরি লিখেছেন, কোনও বিশেষ দলের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে বিপজ্জনক। এই অংশেই মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন— সিইও অফিস কি কমিশনের পূর্ববর্তী নির্দেশ উপেক্ষা করেছে?

মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আরেকটি ইস্যু— বেসরকারি আবাসনে ভোটকেন্দ্র তৈরির ভাবনা নিয়ে। তাঁর দাবি, তিনি জানতে পেরেছেন নির্বাচন কমিশন ডিইও-দের কাছে এ বিষয়ে মতামত চেয়েছে। কিন্তু তাঁর মতে, সরকারি বা আধা-সরকারি জায়গায় ভোটকেন্দ্র থাকা বাধ্যতামূলক। কারণ বেসরকারি আবাসনের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। এই সতর্কতার কথাই তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ Kolkata metro : কলকাতা মেট্রোতে নতুন যুগের শুরু! অরেঞ্জ লাইনে CBTC, যাত্রা হবে আরও দ্রুত ও নিরাপদ!

এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন— এমন সিদ্ধান্তের ফলে ভোটের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি। রাজ্য সরকারের অবস্থান পরিষ্কার— নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং নীতি মেনে হওয়া উচিত। আর সেই জায়গাতেই উদ্বেগের কারণ খুঁজে পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই চিঠির পর এখন নজর কমিশনের দিকে— তারা কী ব্যাখ্যা দেয় এবং এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles