রাজ্যে ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হতেই রাজনৈতিক জমিতে নয়া উত্তাপ। তার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে ধরলেন শাসনকালের উন্নয়নের সারমর্ম। কিন্তু এই রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়— আসলে রাজ্যের বিগত দেড় দশকের পথচলার একটা ছবি দেখাতে চাইলেন তিনি। প্রকাশ্যে এল অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষা— নানা ক্ষেত্রের দাবির পরিসংখ্যান। অনুষ্ঠানে শুরুতেই শোনা গেল ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ গান, গেয়েছেন সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। সেই মুহূর্তে তাঁকে ধন্যবাদও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর দাবি, গত সাড়ে ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গের জিডিপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০.৩১ লাখ কোটি টাকা। একইসঙ্গে মূলধনী খাতে ব্যয় বেড়েছে ১৭.৬৭ শতাংশ। কেন্দ্র টাকা বন্ধ করলেও রাজ্য সরকার রাস্তা, বাড়ি থেকে শুরু করে পরিকাঠামোগত খাতে নিয়মিত খরচ করেছে বলে তাঁর দাবি। অর্থনৈতিক খাতে এই উন্নতি যে সহজ ছিল না, তা-ও তিনি পরিষ্কার জানান।
মমতার দাবি, গত ১৪ বছরে রাজ্যে তৈরি হয়েছে দুই কোটিরও বেশি চাকরি। বেকারত্ব নাকি কমেছে ৪০ শতাংশ। লোকাল কোচ, মেট্রো কোচ, জাহাজ তৈরির মতো শিল্প তৈরি হচ্ছে— এমন কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্প এবং দেউচা পাচামি প্রকল্পে প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে ইতিমধ্যেই গড়ে উঠছে ছ’টি অর্থনৈতিক করিডর।
রিপোর্টে উঠে আসে সামাজিক ক্ষেত্রের তথ্যও। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৩ থেকে ২০২৩— এই দশ বছরে রাজ্যের ১.৭২ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার বাইরে এসেছে। পাশাপাশি ১২ লাখ স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে ওঠার ফলে পশ্চিমবঙ্গ এখন ‘ইন্ডিয়া মডেল’ বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, গ্রামের মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষা ও স্বনির্ভরতা এই মুহূর্তে দেশের জন্য উদাহরণ।
আরও পড়ুনঃ Imran Khan : অবশেষে জল্পনার অবসান! আদিয়ালা জেলে দেখা করে বোন উজ়মার দাবি- সুস্থই আছেন ইমরান খান!
এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২.২১ কোটি মহিলা পাচ্ছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ২২.০২ লাখ মেয়ে রূপশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে এবং এক কোটি মেয়ে কন্যাশ্রী পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ২.৪৫ কোটি পরিবার যুক্ত— যেখানে ব্যয় হয়েছে ১৩,১৫৬ কোটি টাকা। শিশুসাথীতে হাজার হাজার শিশুর অস্ত্রোপচার, শুধু হার্ট অপারেশনই হয়েছে ৬৪ হাজার। ২০১১-র তুলনায় স্বাস্থ্য-বাজেট বেড়েছে ছয় গুণ। তাঁর দাবি, এই সব মিলিয়েই গড়ে উঠেছে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’।





