বাংলার রাজনীতি নিয়ে রাজধানীতে আবার উত্তেজনা বাড়ল। শীতের শুরুতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহ, সংগঠনের বর্তমান অবস্থা এবং সাম্প্রতিক অশান্তি—সব মিলিয়ে চিন্তিত দিল্লি। সেই কারণেই এ দিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে আয়োজন করা হয় বিশেষ বৈঠকের, যেখানে উপস্থিত থাকতে বলা হয় রাজ্যের একাধিক সাংসদকে। বৈঠক শুরুর আগেই জল্পনা ছড়ায়, ঠিক কী নিয়ে এত গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্রের দাবি, বৈঠক শুরু হতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি জানতে চান রাজ্যে বিজেপি নেতা-কর্মীদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের পরিস্থিতি সম্পর্কে। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি প্রশাসনের তৎপরতা, অভিযোগ দায়ের এবং বিভিন্ন অভিযানের প্রসঙ্গও উঠে আসে বৈঠকে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, ঠিক কতটা সেভাবে সংগঠন মাটিতে কাজ করছে এবং কোন কোন বাধায় তারা পিছিয়ে পড়ছেন।
এরপরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন খগেন মুর্মু। কয়েক সপ্তাহ আগেই নাগরাকাটায় পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তিনি। গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়, গুরুতর জখম হন সাংসদ। তাঁর সঙ্গী বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও আহত হন। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর খগেন মুর্মুর অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করতে হয়। ঠিক কারা এই হামলায় জড়িত ছিল এবং কীভাবে হামলা চালানো হয়েছিল—এই প্রশ্নেই প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি বলে জানা গিয়েছে। সাংসদদের কাছ থেকেই ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে চান তিনি।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয় এসআইআর বা ভোটারের তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই প্রক্রিয়ায় জটিলতা বা স্বেচ্ছাচারিতা গ্রহণযোগ্য নয়। তালিকায় যেন কেবল বৈধ ভোটারদেরই নাম থাকে এবং কোনওভাবেই অবৈধ ভোটার যোগ না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি কেন্দ্রের দেওয়া টাকা থাকা সত্ত্বেও দার্জিলিঙে উন্নয়নের কাজ কেন আটকে আছে, সেই প্রশ্নও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
West Bengal politics : ৯০% কাজ শেষ, তবু ৫০ লাখ ভোটারের নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! ছয় জেলার প্রশাসনকে কড়া চিঠি কমিশনের—আসলে কত বড় গরমিল লুকিয়ে আছে বাংলার ভোটার তালিকায়?
বৈঠকের শেষদিকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত বাংলায় আসার অনুরোধ জানান। যদিও ওই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী দফতরই নেবে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে একই সময়ে দিল্লিতে পৌঁছেছেন শুভেন্দু অধিকারী। গুঞ্জন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য। তা হলে কি বড় কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি? সেই উত্তর এখনো অন্ধকারে, তবে রাজধানীতে হঠাৎ এই ব্যস্ততা বাংলার রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।





