৯৩ বছরের বৃদ্ধার ঠিকানা বাঁচাতে মানবিক লড়াই BLO-র

উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরে ঘটে গেল এক হৃদয়ছোঁয়া ঘটনা। ৯৩ বছরের এক অসহায় প্রবীণার ঠিকানা রক্ষার দায়িত্ব নিলেন এলাকার BLO সোহিনী দে। স্বামীর মৃত্যুর পর সেই মহিলা ছেলেবৌমার বাড়িতে জায়গা না পেয়ে আশ্রয় নেন হাতিবাগানের এক বৃদ্ধাশ্রমে। এত বয়সে নিজের পরিচয়পত্রে ঠিকানাটি ধরে রাখার লড়াই যেন হয়ে উঠেছিল তাঁর শেষ আবেগ, আর সেই আবেগই কাঁদিয়ে দেয় দায়িত্বে থাকা সোহিনীকে।

প্রথমে সোহিনী যখন এনিউমারেশনের কাজ করতে প্রবীণার স্বামীর বাড়িতে যান, তখন বৌমা জানিয়ে দেন যে শাশুড়ি অন্যত্র চলে গিয়েছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি ফর্ম পূরণ করেন এবং ডিজিটাইজেশনও শেষ করেন। কিন্তু কয়েকদিন পর বৃদ্ধার ছোট মেয়ে ফোন করে জানান, ঠিকানা বদলে গেলে মায়ের পেনশন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই পেনশনেই বৃদ্ধার আশ্রমের থাকার খরচ জোগায়। আরও জানান, স্বামীর বাড়ির সঙ্গে সম্পর্কের শেষ প্রমাণ হিসেবে এই ঠিকানাটি তাঁর মায়ের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।

বিষয়টি জানার পর সোহিনী আর নিয়মের কঠোর কাঠামোয় আটকে থাকেননি। তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে বাধ্য করে অ্যাসিস্ট্যান্ট ERO-র সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করতে। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে প্রবীণার আবেগ, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ—সবই এই ঠিকানার উপর নির্ভর করছে। দায়িত্বের সঙ্গে মানবিকতার এই মেলবন্ধনেই নতুন সমাধানের পথ খুলে যায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও এগিয়ে আসেন বৃদ্ধাকে সাহায্য করতে।

শেষ পর্যন্ত সোহিনী নিজে বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে সেই মহিলার সঙ্গে দেখা করেন। শান্ত, ক্লান্ত মুখে মায়ের অসহায়ত্ব দেখে তিনি আরও দৃঢ় হন। প্রবীণাকে দিয়ে নতুন করে SIR-এর নথিতে স্বাক্ষর করান এবং সেটি আপলোড করেন সঠিক ঠিকানাসহ। বৃদ্ধার চোখের কোণে জল দেখে সোহিনীর মনে হয়—এই একটি ঠিকানাই তাঁর অতীত, স্মৃতি এবং অস্তিত্বকে ধরে রেখেছে। সেই মুহূর্তে প্রশাসনিক দায়িত্ব যেন হয়ে ওঠে মানবিক কর্তব্যের রূপ।

আরও পড়ুনঃ Dhirendra Krishna Shastri: ‘বাংলা একজোট হলে ভারত হিন্দু রাষ্ট্র হবে’ — ব্রিগেড থেকে বার্তা দিলেন বাগেশ্বর ধাম সরকার!

সব কাজ শেষ করে তিনি প্রবীণাকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসেন যে আবার দেখা করবেন। বৃদ্ধার মুখের হাসি এবং শান্তি দেখে সোহিনী বুঝেছিলেন, তাঁর এই লড়াই কেবল কোনও ফর্মের পরিবর্তন নয়—এ ছিল একজন মানুষের সম্মান, পরিচয় এবং বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles