কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড রবিবার যেন অন্য রূপে ধরা দিল। ডিসেম্বরের মৃদু শীতের সকালে বিশাল জনসমাগম, দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল আর ধর্মীয় আবহ—সব মিলিয়ে ব্রিগেড চত্বরে যেন তৈরি হল আলাদা এক পরিবেশ। বহু মানুষের প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু ঠিক কী বার্তা মিলবে বা কী ইঙ্গিত দেবেন উপস্থিত সাধুসন্তরা—তা নিয়ে সকাল থেকেই কৌতূহল ছিল চরমে।
দু’ বছর আগে ব্রিগেডে আয়োজিত হয়েছিল এক লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ। সেই স্মৃতির পর আরও বড় প্রস্তুতিতে এ বছর আয়োজন করা হল পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ। দায়িত্বে আগের মতোই ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’। মঞ্চে একে একে হাজির হলেন বিভিন্ন সাধুসন্ত, রাজনৈতিক মহলের বিশিষ্টজনও। তবে সবার নজর ছিল বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর দিকেই।
মঞ্চে উঠে শাস্ত্রী কোনও রাখঢাক না করেই নিজের বার্তা স্পষ্ট করে দেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলাকে একজোট করার আহ্বান। বলেন, “প্রদেশ যখন এক হয়, তখন দেশ তৈরি হয়। বাংলার হিন্দুরা যখন এক হবেন, তখনই ভারত হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হবে।” উপস্থিত জনতার মধ্যেও মুহূর্তে তৈরি হয় উত্তেজনা। তাঁর মন্তব্য যে শুধু ধর্মীয় বার্তা নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও আলোড়ন তুলতে চলেছে—তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে কিছুক্ষণের মধ্যেই।
ব্রিগেডের আবহে তাঁর বক্তব্য আরও তীব্র হয়ে ওঠে যখন তিনি ইঙ্গিত করে আক্রমণ শানান ভরতপুরের নিলম্বিত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে বেলডাঙায় ‘বাংলার বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর করেন হুমায়ুন। সেই প্রসঙ্গ টেনে শাস্ত্রী বলেন, “যাঁরা একসময় ভারতে আক্রমণ চালিয়েছিল, তাঁদের নামাঙ্কিত কিছু এই দেশে তৈরি হওয়া উচিত নয়। এটা বাবরের দেশ নয়, রঘুবরের দেশ।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি ভোটমুখী বাংলার রাজনীতিতে নতুন আগুন জ্বালতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Indigo flight crisis : চাপে ইন্ডিগো! নোটিস হাতে ২৪ ঘণ্টা, এবার কি বড় শাস্তি অপেক্ষা করছে?
একদিকে ব্রিগেডে গীতাপাঠ, অন্যদিকে ‘বাংলার বাবরি মসজিদ’ বিতর্ক—দু’টো ঘটনাই যে পরস্পরকে ছুঁয়ে যাচ্ছে, তা বুঝতে বিশেষ সময় লাগেনি। লোকসভা নির্বাচনের পর সামনে বিধানসভা ভোট। ঠিক সেই সময়ে এই দুই বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়াকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন। ব্রিগেডে শাস্ত্রীর বক্তব্য এবং আগের দিন হুমায়ুনের ভিত্তিপ্রস্তর—দু’টিই রাজ্যের আগাম রাজনৈতিক আবহকে আরও তীব্র করে তুলেছে। জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নেতা–সন্ন্যাসীদের উপস্থিতি আর মঞ্চ থেকে দেওয়া তীব্র বার্তা—সব মিলিয়ে রবিবারের ব্রিগেড যেন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিয়ে গেল।





