Mamata banerjee : “আমি স্তম্ভিত এবং বিচলিত” — মেসিকে ঘিরে যুবভারতীর অশান্তিতে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা, তবে দায় কার ঘাড়ে?

শনিবারের সকালটা শুরু হয়েছিল অন্যরকম উত্তেজনায়। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের চারপাশে ভিড়, হাতে হাতে টিকিট, চোখে একটাই স্বপ্ন—বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিয়োনেল মেসিকে এক ঝলক দেখা। আট থেকে আশি, সকলের মধ্যেই ছিল এক অদ্ভুত উন্মাদনা। এমন দিনে ছোটখাটো বিশৃঙ্খলা নতুন নয়, কিন্তু সকাল গড়াতেই সেই উন্মাদনার রং বদলাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে প্রশ্ন উঠতে থাকে—এই ভিড় কি আদৌ ঠিকভাবে সামলানো যাবে?

এই আবহেই সামনে আসে রাজ্যের প্রশাসনের অস্বস্তির ছবি। যুবভারতীতে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দিনভর আলোচনা চলতে থাকে। ভক্তদের প্রত্যাশা আর বাস্তবের ব্যবধান যেন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছিল। সেই পরিস্থিতির মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি ধরা পড়ে। তিনি জানান, সল্টলেক স্টেডিয়ামে যা ঘটেছে, তাতে তিনি “স্তম্ভিত এবং বিচলিত”। এই বক্তব্যেই প্রথম ইঙ্গিত মেলে যে ঘটনা শুধুই ভিড়ের উচ্ছ্বাসে সীমাবদ্ধ ছিল না।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য তিনি লিয়োনেল মেসি, সকল ক্রীড়াপ্রেমী এবং ভক্তদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। জানা যায়, মেসিকে একঝলক দেখার জন্য যখন হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হচ্ছিলেন, তখন তিনিও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে মাঝপথ থেকেই তাঁকে ফিরে আসতে হয়। সেই অভিজ্ঞতাই যেন তাঁর বক্তব্যে আরও গভীরতা এনে দেয়।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝেই প্রশাসনিক স্তরে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ‘বিশৃঙ্খলা’র তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়। তাঁর সঙ্গে থাকবেন মুখ্যসচিব, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য বিষয়ক বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকরা। এই কমিটি ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখবে, কারা দায়ী তা চিহ্নিত করবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি না হয়, তার জন্য সুপারিশ দেবে—এমনটাই জানানো হয়।

আরও পড়ুনঃ Lionel Messi : জায়ান্ট স্ক্রিনেও মেসি দেখা হলো না, গ্রেফতার শতদ্রু দত্তের উপর ভক্তদের ক্ষোভ!

তদন্তের ঘোষণার পাশাপাশি সামনে আসে যুবভারতীর মাঠের সেই মুহূর্তগুলির বিস্তারিত ছবি। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মেসির গাড়ি স্টেডিয়ামে ঢোকে। সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো ডি’পল। গাড়ি থেকে নামার পরেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গ্যালারি থেকে অনেকেই তাঁদের দেখতে পাননি। শুরু হয় ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান। উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে একসময় ফেন্সিং ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন হাজার খানেক মানুষ। পরিস্থিতি সামলাতে নামাতে হয় র‍্যাফ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্টেডিয়ামের একাধিক অংশ। এই পুরো ঘটনার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা এবং তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের ক্রীড়ামহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়—এই অভিজ্ঞতা থেকে কি ভবিষ্যতে সত্যিই শিক্ষা নেওয়া হবে?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর