ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। কখনও নাম বাদ পড়া, কখনও ঠিকানা বদলে যাওয়া—এ সব নিয়েই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ জমে ওঠে। কিন্তু এ বার হুগলির ডানকুনিতে এমন এক ঘটনা ঘটল, যা শুধু চমকে দেওয়ার মতো নয়, রীতিমতো উদ্বেগেরও। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই এলাকায় শুরু হয় ফিসফাস, আর সেই ফিসফাস মুহূর্তে পরিণত হয় তীব্র বিতর্কে। কারণ, তালিকায় যাঁর নাম ‘মৃত’ হিসেবে উঠে এসেছে, তিনি আদৌ মৃত নন—বরং একজন সক্রিয় জনপ্রতিনিধি।
ঘটনাটি হুগলির ডানকুনি পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডকে ঘিরে। এখানকার তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সূর্য দে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বাসিন্দা। চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই ওয়ার্ডে তিনি নিয়মিত মানুষের সঙ্গে কাজ করেন। মঙ্গলবার সকালে যখন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়, তখনই চোখ কপালে ওঠে তাঁর। নিজের নাম খুঁজতে গিয়ে দেখেন, ভোটার তালিকার ‘মৃত’ অংশে তাঁর নাম নথিভুক্ত। তালিকা অনুযায়ী, তাঁর ক্রমিক নম্বর ৪০, বুথ নম্বর ২২৬—সব ঠিক থাকলেও তিনি নাকি আর বেঁচে নেই।
এই ভুল শুধুই নথিগত বলে মেনে নিতে পারেননি সূর্য দে। ক্ষোভ, অপমান আর প্রতিবাদের অনুভূতি মিলেমিশে তাঁকে ঠেলে দেয় এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের দিকে। কাউকে আগাম কিছু না জানিয়েই তিনি প্রতীকী প্রতিবাদে নিজের ‘সৎকার’-এর আয়োজন করেন। কাঠ, ফুল—সব প্রস্তুত করে নিজেই পৌঁছে যান শ্মশানে। জনপ্রতিনিধিকে শ্মশানে দাঁড়িয়ে এমন প্রতিবাদ করতে দেখে ডানকুনিতে মুহূর্তে শোরগোল পড়ে যায়।
শ্মশানে বসেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন সূর্য দে। তিনি বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে ভোটার তালিকায় মৃত দেখানো মানে শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, গোটা ব্যবস্থার ব্যর্থতা। তাঁর কথায়, “আমি নিজে হেঁটে এসে নিজের সৎকার করতে দাঁড়িয়েছি। যদি আমাকে মৃত বলে মনে করা হয়, তবে আধিকারিকদের বলব—এসে চুল্লিতে পুড়িয়ে দিন।” তাঁর এই মন্তব্যে ক্ষোভের পাশাপাশি গভীর হতাশাও স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : ৪৫ হাজার নাম ছাঁটাই ভবানীপুরে! খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই কালীঘাটে তড়িঘড়ি বৈঠক মমতার!
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে। জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ভোটার তালিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে এমন গুরুতর ভুল কীভাবে ঘটল? একজন জীবিত, সক্রিয় কাউন্সিলর যদি ‘মৃত’ হয়ে যান, তবে সাধারণ মানুষের নাম-ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ডানকুনির রাজপথে।





