Abhishek Banerjee: ‘এক ঘণ্টায় ক্ষমা, তবু কেন প্রশ্ন?’ যুবভারতী-কাণ্ডে কুম্ভমেলার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে তোপ অভিষেকের!

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার ঘটনা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ। ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং বিরোধী দলগুলির আক্রমণ—সব মিলিয়ে বিষয়টি ক্রমশ বড় আকার নিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, দায় কার, আর এই ধরনের ঘটনার পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। এই আবহেই ধীরে ধীরে সামনে আসতে শুরু করেছে শাসকদলের অবস্থান এবং পাল্টা যুক্তি।

ঘটনার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ায় বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। তিনি নিজেই স্টেডিয়ামের পথে রওনা হয়ে মাঝপথে ফিরে যান এবং পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, যুবভারতীতে চূড়ান্ত অব্যবস্থা তাঁকে মর্মাহত করেছে। লিওনেল মেসির এক ঝলক দেখার আশায় জড়ো হওয়া ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরেও নড়াচড়া শুরু হয়—পুলিশকর্তা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। এমনকি ক্রীড়ামন্ত্রী নিজের পদ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার সিদ্ধান্তও নেন।

তবুও বিরোধীদের আক্রমণ থামেনি। বিজেপি একের পর এক প্রশ্ন তুলে শাসকদলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে এতদিন নীরব থাকা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশেষে মুখ খুললেন। মঙ্গলবার সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুবভারতীর ঘটনায় এক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চেয়েছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। তার পরেও কেন একই প্রশ্ন বারবার করা হচ্ছে, সেই বিষয়টি নিয়েই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর পরই অভিষেকের মন্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও চড়ে ওঠে। তিনি কুম্ভমেলার প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন—সেখানে বহু মানুষের মৃত্যুর সময় কি যোগী আদিত্যনাথ ক্ষমা চেয়েছিলেন? সাংবাদিকরা কি তখন বিজেপি নেতৃত্বকে একইভাবে প্রশ্ন করেছিলেন? একই সঙ্গে তিনি নয়া দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনের পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় ঘটনার পর দ্রুত ক্ষমা চাওয়া হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, অথচ অন্য রাজ্য বা কেন্দ্রীয় ঘটনার সময় সেই প্রশ্ন তোলা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ West Bengal : ‘ভোটার তালিকায় মৃত আমি!’—শ্মশানে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ কাউন্সিলরের!

অভিষেক আরও বলেন, যাঁর মধ্যে জীবনশক্তি আছে তিনিই বিনয়ী হতে পারেন। শাসকদল জনতার সামনে মাথা নত করেছে বলেই তিনি মনে করেন। অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার থেকে শুরু করে আয়োজক ও মন্ত্রী—সবার বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ হচ্ছে। তাই এই ইস্যুতে একতরফা আক্রমণ কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্নই তুলে ধরেন তিনি। যুবভারতী-কাণ্ড নিয়ে তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা এখন শুধু ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় তুলনার ময়দানে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles