বাংলাদেশের রাজপথে আবার ফিরছে সেই চেনা অস্থিরতার ছবি। নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে যে উত্তেজনার পারদ চড়ছে, তার আঁচ এখন আর শুধু রাজনৈতিক ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই—ছড়িয়ে পড়ছে সংবাদমাধ্যম, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের জীবনেও। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে একের পর এক শহরে আতঙ্ক, ক্ষোভ আর অবিশ্বাসের আবহ ক্রমেই ঘনিয়ে উঠছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে রাত নামলেই মানুষ জানে না পরের ভোরটা কেমন হবে।
এই অস্থিরতার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ঢাকার জনবহুল এলাকায় একটি প্রকাশ্য সভায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। পরে তাঁর মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তোলে। অগাস্ট ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত হাদির মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তাঁর অনুগামীরা। ঢাকা-সহ বিভিন্ন শহরে শুরু হয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাত ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। বিক্ষুব্ধ জনতার একটি দল রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে এসে কারওয়ানবাজারে ঢুকে পড়ে দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-র প্রধান কার্যালয়ে। অফিসে ঢুকে চালানো হয় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুঠপাট, তারপর ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। প্রাণ বাঁচাতে ছাদে আশ্রয় নেন সাংবাদিক ও কর্মীরা। ক্রেনের সাহায্যে তাঁদের উদ্ধার করে দমকল বাহিনী। একই রাতে আগুন লাগে ‘ডেইলি স্টার’-এর অফিসেও। সংবাদমাধ্যমের উপর এই হামলা গোটা দেশে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ভিড়ের চাপে দমকল পৌঁছতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। হামলায় জখম হন সংবাদপত্রের এক শীর্ষ কর্তা। শেষ পর্যন্ত রাত প্রায় দুটো নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে। এই অশান্তির আবহে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস দেশবাসীর কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরও পড়ুনঃ West Bengal SSC : সময় বাড়ল এসএসসি নিয়োগে, বেতন মিলবে ‘যোগ্য’দের—তবে কি ফের পিছিয়ে পড়লেন নতুন পরীক্ষার্থীরা?
এদিকে, এই অরাজকতার মাঝেই ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে ভারত-বিরোধী স্লোগান। কট্টরপন্থীদের একটি অংশ বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের সামনে ইট-পাটকেল ছোড়ে। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে ভারতও। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সিঙ্গাপুর থেকে ওসমান হাদির দেহ ঢাকায় আনা হবে এবং শনিবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ঠিক আগে এই উত্তাল পরিস্থিতি বাংলাদেশকে কোন দিকে নিয়ে যাবে—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।






