চেনা গ্রাম্য নীরবতাই হঠাৎ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় একটি রাতের ঘটনায়। অভিযোগ, ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক সংখ্যালঘু বিধবা মহিলা। ঘটনার নৃশংসতা শুধু তাঁর শরীরেই নয়, মানসিকভাবেও গভীর ক্ষত রেখে গিয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা—সব প্রশ্ন যেন একসঙ্গে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানার নদীপাড়া এলাকায় গত ৩ জানুয়ারি রাতে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। নির্যাতিতা প্রায় ৪০ বছর বয়সি এক হিন্দু বিধবা মহিলা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে আচমকাই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের সময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নির্যাতিতার অভিযোগ, স্থানীয় দুই যুবক—শাহিন ও হাসান—তাঁকে পরপর ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পর তাঁকে গাছে বেঁধে রেখে চুল কেটে দেওয়া হয়। এই অপমান ও সহিংসতার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। সেদিন নির্যাতিতার বাড়িতে আত্মীয়স্বজন এসেছিলেন; তাঁদেরও মারধর করা হয় এবং ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপটও ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছে। নির্যাতিতার দাবি, প্রায় আড়াই বছর আগে শাহিন তাঁর কাছ থেকে একটি দুইতলা বাড়ি ও কিছু জমি কেনেন। সেই সময় থেকেই নানা কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করেন তিনি। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আগেও হেনস্থা ও ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত সেই পুরনো বিরোধই ভয়াবহ অপরাধের রূপ নেয় বলে মনে করছেন অনেকে।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh hindu mur*der : ১৮ দিনে পঞ্চম হিন্দু খু*ন বাংলাদেশে! সন্ধ্যার ভরা বাজারে গুলি করে হত্যা যশোরে!
ঘটনার পর কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানান, থানায় ডেকে এনে এজাহার নেওয়া হয়েছে। এদিকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর সামাজিক মাধ্যমে করা মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তা—এই তিন প্রশ্নকে সামনে এনে ঘটনাটি এখন শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক বিবেকের পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।






