বাংলাদেশের জনজীবনে যেন ক্রমেই অদৃশ্য এক ভয়ের ছায়া ঘনিয়ে আসছে। বাজার, রাস্তা, পাড়া—যেখানে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা থাকার কথা, সেখানেই বারবার ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্কের খবর। সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার অভিযোগে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। প্রতিবাদ, আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তার মাঝেই ফের এমন একটি ঘটনা সামনে এল, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে।
সোমবার সন্ধ্যার একটু আগে, যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার কপিলা বাজারে আচমকাই ভেঙে পড়ে স্বাভাবিক ছন্দ। তখনও বাজারে ভিড়, দোকানপাট খোলা, মানুষজন ব্যস্ত নিজেদের কাজে। ঠিক সেই সময়েই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, হঠাৎ করেই কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয়ের দুষ্কৃতী ভিড়ের মধ্যেই একজন যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক, মানুষ ছুটতে শুরু করেন।
তারপরে স্পষ্ট হয় নিহত যুবকের পরিচয়। তাঁর নাম রাণা প্রতাপ বৈরাগী। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার আরুয়া গ্রামের বাসিন্দা, তুষারকান্তি বৈরাগীর ছেলে। একাধিক গুলির আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। খবর পেয়ে মণিরামপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে হামলাকারীরা কী কারণে এই খুন করল, বা তারা কারা—তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
এই ঘটনাটি আলাদা করে ভাবাচ্ছে কারণ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। কোথাও বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ, কোথাও মারধর করে খুন, আবার কোথাও মন্দিরে হামলার খবর। সম্প্রতি পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, রাজবাড়ি ও ময়মনসিংহ থেকেও একের পর এক অশান্তির খবর এসেছে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও পোস্ট পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। গত ১৮ দিনে পঞ্চম হিন্দু হত্যার ঘটনা ঘটলো বাংলাদেশে।
আরও পড়ুনঃ মরার উপর খাঁড়ার ঘা: নিম্নচাপের টানে হাড় কাঁপানো শীতে জমে উঠছে বাংলা
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতাও বাড়ছে। তার মধ্যেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আশঙ্কায় ভুগছেন। যশোরের এই প্রকাশ্য খুন সেই ভয়েরই আরেকটি রক্তাক্ত উদাহরণ। প্রশাসনের তরফে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—এই হিংসার শেষ কোথায়?





