India US Relations:‘হোল্ড অন…’ বার্তার আড়ালে কী ইঙ্গিত? মোদী-ট্রাম্প বন্ধুত্ব নিয়ে নয়া দিল্লিতে বিস্ফোরক মন্তব্য মার্কিন দূতের!

নয়া দিল্লি ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক বরাবরই কূটনৈতিক মহলের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। কখনও উষ্ণ বার্তা, কখনও মতবিরোধ—এই ওঠানামার মধ্যেই দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়েছে। ঠিক এমন এক সময় ভারতে এসে নতুন করে আলোচনার আগুনে ঘি ঢাললেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। প্রথম ভাষণেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক শুধু কূটনীতির অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়, এর ভিতরে রয়েছে ব্যক্তিগত রসায়ন, আস্থা এবং ‘প্রকৃত বন্ধুত্ব’-এর বার্তা।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নয়া দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসে শপথবাক্য পাঠের সময়ই নজর কেড়েছে পরিবেশ। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছিল স্যাম অ্যান্ড ডেভের বিখ্যাত গান ‘হোল্ড অন, আই’ম কামিং’। সেই প্রতীকী মুহূর্তের মধ্য দিয়েই যেন সার্জিও গোর বার্তা দিলেন—সবকিছু এখনই স্পষ্ট নয়, তবে অপেক্ষা করলে সামনে আরও অনেক কিছু আসছে। বক্তব্যে তিনি ভারতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর করতেই তিনি ‘গভীর শ্রদ্ধা’ ও স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে ভারতে এসেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক প্রসঙ্গে গোর জানান, এই সম্পর্ক কেবল কৌশলগত নয়, ব্যক্তিগত স্তরেও দৃঢ়। তিনি বলেন, প্রকৃত বন্ধুরা মতভেদে জড়াতে পারেন, কিন্তু আলোচনার মাধ্যমেই তা মিটিয়ে নেন। এই মন্তব্য এমন এক সময় এল, যখন ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর দাবি ঘিরে বিতর্ক রয়েছে এবং ভারত তা বারবার নস্যাৎ করেছে। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে তেল কেনা ঘিরে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং মোট ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে।

এই টানাপোড়েনের মধ্যেই গোর ইঙ্গিত দেন, সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনও সম্ভাবনাময়। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফের ভারতে আসতে পারেন। নিজের সাম্প্রতিক কথোপকথনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গোর বলেন, ট্রাম্প তাঁর শেষ ভারত সফর ও মোদীর সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা উষ্ণতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তাঁর আশা, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যেই সেই সফর বাস্তবায়িত হতে পারে। রসিকতার ছলে ভোরবেলা ট্রাম্পের ফোন করার অভ্যাসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ I-PAC case : “কোনও অনুমতি ছাড়াই প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী”—ইডি-র অভিযোগ ঘিরে প্রশ্নের মুখে তৃণমূল সরকার ও রাজ্য প্রশাসন!

সবশেষে সামনে আসে রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের নিজস্ব পরিচয়। উজবেকিস্তানের তাসখন্দে জন্ম, শৈশবে আমেরিকায় পাড়ি, এবং হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দ্রুত উত্থান—সব মিলিয়ে তিনি এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় সরাসরি অভিজ্ঞতা সীমিত হলেও, ট্রাম্পের আস্থাই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এনেছে। তাই প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ‘প্রকৃত বন্ধুত্ব’-এর কথার আড়ালে কি সত্যিই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে, নাকি এটি কেবল কূটনৈতিক আশ্বাস? উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles