I-PAC case : “কোনও অনুমতি ছাড়াই প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী”—ইডি-র অভিযোগ ঘিরে প্রশ্নের মুখে তৃণমূল সরকার ও রাজ্য প্রশাসন!

নির্বাচনের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে আবারও চরম উত্তাপ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও রাজ্য প্রশাসনের টানাপোড়েন নতুন নয়, তবে I-PAC সংক্রান্ত মামলায় যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে, তা রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ—সবার মধ্যেই কৌতূহল বাড়াচ্ছে। ঠিক কী হয়েছিল সেদিন, প্রতীক জৈনের বাড়ির ভিতরে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শীর্ষ আদালত থেকে রাজ্য রাজনীতির অলিগলিতে।

ঘটনার সূত্রপাত I-PAC মামলায় ইডি-র তল্লাশিকে ঘিরে। সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা পিটিশনে কেন্দ্রীয় সংস্থা অভিযোগ করেছে, তল্লাশির সময় প্রতীক জৈনের বাড়িতে কোনও অনুমতি ছাড়াই ঢুকেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরাও। ইডির দাবি, তল্লাশি চলাকালীন বাজেয়াপ্ত করা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক তথ্য জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী, ডিজি ও সিপি-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মোট ১৭টি ধারায় মামলা করার আবেদন জানানো হয়েছে।

ইডির অভিযোগ এখানেই থামেনি। পিটিশনে বলা হয়েছে, পঞ্চনামা রেকর্ড করার সময় তদন্তকারী আধিকারিকদের বাধা দেওয়া হয় এবং ভয় দেখানো হয়। ফলে নিয়মমাফিক পঞ্চনামা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রীয় সংস্থার বক্তব্য, প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে তথ্যপ্রমাণ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা কার্যত চুরির শামিল, তাই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫ ধারায় অভিযোগ আনার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, শেক্সপিয়ার সরণী থানা ও ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে ইডি। তাদের দাবি, তল্লাশির সময় প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের দ্বারা। ওই ফুটেজ যাতে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়, সেই নির্দেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। শুধু তাই নয়, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত আইনি খরচ অভিযুক্তদের উপর চাপানোর আবেদনও করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

আরও পড়ুনঃ Nipah Virus : রাজ্যে নিপার ছায়া! চিকিৎসা নেই, ভ্যাকসিন নেই—জ্বরের পরই কি শুরু হয় মৃত্যুর কাউন্টডাউন? কোন খাবারেই লুকিয়ে সবচেয়ে বড় বিপদ!

এই অভিযোগের পাল্টা সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, ইডি রাজনৈতিক চাপে এসব পদক্ষেপ করছে। তাঁর প্রশ্ন, কোন মামলার ভিত্তিতে I-PAC অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছিল? যদি প্রতীক জৈনের বিরুদ্ধে অভিযোগই থাকে, তবে চার বছরে কোনও নোটিস কেন দেওয়া হয়নি? ঠিক নির্বাচনের মুখে এই তৎপরতার নির্দেশ কে দিল? I-PAC-এর অন্য ডিরেক্টরদের বাড়িতে তল্লাশি হয়নি কেন—সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। ফলে I-PAC-ED মামলার এই নতুন মোড় রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার শেষ কোথায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে সকলে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles