মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা—এক সময় শান্ত জনপদ হিসেবেই পরিচিত ছিল এই এলাকা। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে সেই চেনা ছবি বদলে যেতে শুরু করে। হঠাৎ করেই উত্তেজনা, বিক্ষোভ আর আতঙ্কে ঢেকে যায় গোটা এলাকা। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ঘোরাফেরা করতে থাকে—এই অশান্তির শুরু কোথা থেকে? কেনই বা এমন পরিস্থিতি তৈরি হল? ঠিক তখনই রাজ্যের শীর্ষ মহল থেকে শান্ত থাকার বার্তা উঠে আসে, যার গুরুত্ব আলাদা করে নজর কাড়ে।
জানা যায়, ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ দানা বাঁধে। শুক্রবার সকাল থেকেই বেলডাঙায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করে। দোকানপাট বন্ধ, রাস্তায় উত্তেজিত জনতা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি—সব মিলিয়ে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। এই আবহেই উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান এবং স্পষ্ট করেন, কারও প্ররোচনায় পা না দিতে হবে।
এরপর মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে আসে আরও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তিনি দাবি করেন, বেলডাঙার অশান্তি পরিকল্পিত এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উসকানি রয়েছে। তাঁর অভিযোগের তির যায় বিজেপির দিকেই। এমনকি কেন্দ্রীয় এজেন্সিকেও এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, শুক্রবার জুম্মাবার—সংখ্যালঘুদের কাছে এই দিনের আলাদা ধর্মীয় ও আবেগগত গুরুত্ব রয়েছে। সেই আবেগকে অগ্রাহ্য করে যদি কেউ পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এখানেই থামেননি তিনি, সংখ্যালঘু সমাজের ক্ষোভকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, হিংসা কোনও সমাধান নয়। তিনি জানান, ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের বিষয় সরকার গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। প্রতিটি ঘটনায় এফআইআর হয়েছে, পরিবারগুলিকে সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। তাই আবেগে নয়, সরকারের উপর আস্থা রেখে শান্ত থাকার আবেদন জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ Abhishek Banerjee:“যদি দেখো বিজেপির কর্মকর্তা দশটার বেশি ফর্ম জমা দিতে আসে, তাহলে রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে ডিজে বাজাও”— মেদিনীপুরের মঞ্চ থেকে বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের !
বিজেপিকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যগুলিতেই সবচেয়ে বেশি পরিযায়ী শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। বিহার থেকে শুরু করে অন্যান্য রাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, ভোটে হার নিশ্চিত বুঝেই বাংলায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে তাঁর বার্তা একটাই—রাজ্য সরকার মানুষের পাশে আছে, আর কোনও রাজনৈতিক চক্রান্তের ফাঁদে পা না দিয়ে শান্তি বজায় রাখাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।





