ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই ভবানীপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। দিনের আলো নয়, বরং গভীর রাতের একটি ঘটনা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া কিছু দৃশ্য এখন রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধী ও শাসক—দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে, আর সাধারণ মানুষের মনে উঠছে একটাই প্রশ্ন—ভোটের আগে কি তবে উত্তেজনা আরও বাড়বে?
ঘটনার সূত্রপাত একটি ভিডিয়ো ঘিরে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি সিসিটিভি ফুটেজ পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শুনশান রাস্তায় দু’জন মুখ ঢাকা ব্যক্তি এসে একটি বিজেপি পতাকা নামিয়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন। পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি বা দু’টি ট্যাক্সি। ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ভবানীপুরে বিজেপির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে এবং এর সঙ্গে তৃণমূলের কর্মীরা যুক্ত। তাঁর বক্তব্য, “যত এইভাবে বিজেপির পতাকা পোড়ানো হবে, ততই বিজেপির জয়ের ব্যবধান বাড়বে।” তিনি আরও বলেন, নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুরে বিশেষ বাহিনী নামিয়েছেন বলেই এমন ঘটনা ঘটছে। তাঁর মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে আসন্ন বিধানসভা ভোটে ভবানীপুর আর নিরাপদ আসন নয়।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মিশ্র এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন। তাঁর পরামর্শ, “শুভেন্দুবাবু রাত পাহারা দিন, তাহলে হাতেনাতে ধরতে পারবেন। না হলে পুলিশে অভিযোগ করুন।” তিনি আরও দাবি করেন, “এই সব ছিঁচ কাঁদুনের জন্যই বিজেপির বাংলায় এই অবস্থা”
আরও পড়ুনঃ Kolkata: কয়লা দুর্নীতির জালে কোটি কোটি টাকা! কলকাতায় ইডির হানায় ৪ কোটি বাজেয়াপ্ত, উদ্ধার সোনার ভাণ্ডার!
উল্লেখ্য, ভবানীপুর ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দিক থেকে সংবেদনশীল কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বিধানসভা এলাকায় একাধিকবার বিএলএ-দের নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া ঠিকঠাক চলছে কি না তা খতিয়ে দেখেছেন। সব মিলিয়ে ভোটের আগে ভবানীপুর যে হটস্পট হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই কতদূর গড়ায় এবং ভোটের ফলাফলে তার প্রভাব পড়ে কি না।






