‘ইনকিলাব’ থেকে ‘মা মাটি মানুষ’ প্রতীক উর রহমানের তৃণমূলে যোগে নতুন সমীকরণ

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তৃণমূলে যোগ দিলেন সদ্য প্রাক্তন সিপিএম নেতা প্রতীক উর রহমান। Abhishek Banerjee এর হাত ধরে আমতলার পার্টি অফিসে শাসকদলে নাম লেখান তিনি। গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তুমুল জল্পনা চলছিল। নিজেই জানিয়েছিলেন নির্দিষ্ট দিনে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত জানাবেন। শেষ পর্যন্ত সেই ঘোষণাই বাস্তবে পরিণত হল। লোকসভা নির্বাচনে যাঁর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, সেই অভিষেকের উপস্থিতিতেই লাল পতাকা ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেওয়া রাজ্য রাজনীতিতে বড় বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এই যোগদান ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণের চর্চা।

যোগদানের পর প্রতীক উর রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁর মূল লক্ষ্য বিজেপিকে আটকানো এবং সেই লড়াইয়ে তৃণমূলই সবচেয়ে শক্তিশালী দল। তিনি বলেন, বাংলার স্বার্থ রক্ষায় নেত্রী Mamata Banerjee যেভাবে লড়াই করছেন, তাতে তিনি অনুপ্রাণিত। সিপিএমে থাকাকালীন বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে অতীতে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জানান, মানুষের প্রতিক্রিয়া বুঝে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে কল্যাণমূলক প্রকল্পের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। সেই জায়গা থেকেই রাজনৈতিক অবস্থান বদলের সিদ্ধান্ত বলে দাবি তাঁর।

অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক উরের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মিটিং মিছিলে সক্রিয় মুখ হিসেবেই তিনি তাঁকে দেখেছেন। ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি না করে আদর্শগত লড়াইয়ের কথাই বরাবর বলেছেন প্রতীক উর। ডিল এবং টিকিট প্রসঙ্গে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অভিষেক জানান, প্রতীক নিজেই পরিষ্কার করেছেন তিনি কোনও নির্বাচনী টিকিটের জন্য আসেননি, সংগঠনে কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য। তৃণমূলের আদর্শ প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিরোধীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে বলেন, ব্যক্তি আক্রমণের বদলে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।

প্রতীক উর রহমান তাঁর বক্তব্যে আরও দাবি করেন, সিপিএমের ভিতরে দীর্ঘদিন দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছিল বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশ্নে বিরোধী শিবিরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতীক। তাঁর কথায়, ভোট রাজনীতিতে বিভ্রান্তিকর প্রচার এবং জোট সমীকরণ নিয়ে বহু অস্পষ্টতা রয়েছে, যার জবাব সময়ই দেবে। তিনি এও বলেন, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে কঠিন লড়াইয়ে নামানো হয়েছিল এবং পরাজয় পূর্বনির্ধারিত ছিল বলে অনেকেই জানতেন।

আরও পড়ুনঃ Central forces deployed in Bengal : ভোটের আগে বাংলায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী!শাহের পদক্ষেপে তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ!

এই যোগদানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। এক সময় ইনকিলাবের স্লোগানে সক্রিয় থাকা প্রতীক উর এখন মা মাটি মানুষ এর পতাকাতলে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নয়, বৃহত্তর ভোট সমীকরণেরও ইঙ্গিত। আগামী দিনে সংগঠনে কী ভূমিকা নেন তিনি এবং বিরোধীদের পাল্টা কৌশল কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। প্রতীক উরের এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতির ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই সময়ের অপেক্ষা।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles