দেশের নিরাপত্তা ঘিরে উদ্বেগ যেন নতুন কিছু নয়। মাঝেমধ্যেই গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তা, কোথাও সন্দেহজনক গতিবিধি, আবার কোথাও উসকানিমূলক পোস্ট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কখনও কখনও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। সম্প্রতি রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় কিছু বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে শুরু হওয়া তদন্তই শেষ পর্যন্ত বড়সড় অভিযানে গড়ায়। সেই তদন্তের সূত্র ধরে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত, যার শিকড় ছড়িয়ে ছিল একাধিক রাজ্যে।
দিল্লির বেশ কয়েকটি জনবহুল এলাকা, এমনকি ঐতিহাসিক স্থানের আশপাশেও ‘আজাদ কাশ্মীর’ স্লোগান লেখা পোস্টার নজরে আসে। পাশাপাশি সমাজমাধ্যমেও জঙ্গি কার্যকলাপকে সমর্থন করে একাধিক পোস্ট ধরা পড়ে তদন্তকারীদের নজরে। এর পরই তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল। সূত্র বলছে, অনলাইন অ্যাকাউন্টের গতিবিধি খতিয়ে দেখতেই দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর তিরুপুরে পৌঁছন তদন্তকারীরা। সেখানে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় শুরু হয় অভিযান।
তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করতেন ছয় সন্দেহভাজন। তাঁদের নাম—মিনাজ়ুর রহমান, মহম্মদ শবত, উমর, মহম্মদ লিটন, মহম্মদ শাহিদ এবং মহম্মদ উজ্জ্বল। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁরা ভুয়ো পরিচয়ে সেখানে বসবাস করছিলেন। অভিযানের সময় উদ্ধার হয়েছে একাধিক জাল আধার কার্ড, ১৬টি সিম কার্ড এবং ৮টি মোবাইল ফোন। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন, যারা পরিচয় গোপন করতে ভুয়ো নথি ব্যবহার করছিলেন। সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত এখানেই থেমে থাকেনি। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ থেকেও আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছিল। বিদেশি হ্যান্ডলারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং বাংলাদেশের জঙ্গি গোষ্ঠীর মদতপুষ্ট এই চক্র দেশে বড়সড় নাশকতার ছক কষছিল। ধৃতদের দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে জেরা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Central forces deployed in Bengal : ভোটের আগে বাংলায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী!শাহের পদক্ষেপে তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ!
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি গোয়েন্দাদের তরফে সতর্কবার্তা আসে যে রাজধানীর ঐতিহাসিক স্থাপনা ও জনবহুল এলাকাকে নিশানা করার ছক কষছে জঙ্গি সংগঠন লশকর-ই-তৈবা। বিশেষ করে লালকেল্লা সংলগ্ন অঞ্চল নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জারি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে রাজধানী ও অন্যান্য বড় শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এর মধ্যেই পঞ্জাব ও কাশ্মীরে আইইডি উদ্ধারের ঘটনাও সামনে আসে। তদন্তকারীদের মতে, সাম্প্রতিক গ্রেফতারি একটি সম্ভাব্য বড়সড় হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য—এই নেটওয়ার্কের পেছনে কারা, কোথা থেকে অর্থ ও নির্দেশ আসছিল এবং দেশের ভেতরে আর কারা যুক্ত—তা সম্পূর্ণভাবে উদঘাটন করা।





