দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। এখনও নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি, কিন্তু রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া ইতিমধ্যেই তপ্ত। গ্রাম থেকে শহর—চায়ের দোকান থেকে সামাজিক মাধ্যমে একটাই আলোচনা, ভোট ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে? এই প্রশ্নের উত্তর মিলতে শুরু করেছে নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই।
সূত্রের খবর, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। তার পরেই নির্বাচন কমিশন নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে। তবে তার আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যকে বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, কমিশনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। আগামী ১ মার্চ থেকেই প্রথম দফার বাহিনী পৌঁছতে শুরু করবে।
প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে আসছে। তার মধ্যে সিআরপিএফ ১১০ কোম্পানি, বিএসএফ ৫৫ কোম্পানি, সিআইএসএফ ২১ কোম্পানি, আইটিবিপি ২৭ কোম্পানি এবং এসএসবি ২৭ কোম্পানি রয়েছে। এরপর ১০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় আরও ২৪০ কোম্পানি বাহিনী আসবে। দ্বিতীয় দফায় সিআরপিএফ ১২০ কোম্পানি, বিএসএফ ৬৫, সিআইএসএফ ১৬, আইটিবিপি ২০ এবং এসএসবি ১৯ কোম্পানি থাকবে। সব মিলিয়ে আপাতত ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোথায় কত বাহিনী থাকবে, তা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা হবে। আপাতত বিভিন্ন এলাকায় টহলদারি শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার অভিযোগ করেছেন, ভোট ঘোষণার অনেক আগেই বাহিনী আনা হচ্ছে, যা রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন বললেই সব কিছু মেনে নেওয়া যায় না, রাজ্যেরও মতামত থাকা উচিত। অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের বক্তব্য একেবারেই উল্টো সুরে।
আরও পড়ুনঃ International Mother Language Day 2026 : ‘যেকোনো ভাষার উপর আক্রমণ মানেই প্রতিবাদ’— আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বহুভাষিক ঐক্যের বার্তায় রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ অঙ্গীকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!
রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় রয়েছে। সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট করাতে এবং মানুষের আস্থা ফেরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন। তাঁর মতে, শুধু ভোটের দিন নয়, অন্তত তিন মাস বাহিনী থাকা উচিত। ফলে ভোটের আগেই বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।





