করোনার দাপটে নাজেহাল জনজীবন। আর এই করোনাকে আটকাতে গত ২৫শে মার্চ থেকে দফায় দফায় লকডাউন শুরু হয়েছে। এই লকডাউনের ফলে ভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়েছেন অনেক পরিযায়ী শ্রমিক। এবার তৃতীয় দফার লকডাউনে এই সব মানুষদেরই বাড়ি ফেরানোর দায়ভার নিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার। এমন পরিস্থিতিতে বিহারের পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিহারে ফিরতে চাওয়া শ্রমিকরা স্পষ্ট করে জানান, উত্তরপ্রদেশ সরকার তাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য অনেক ব্যবস্থা করেছেন সেই তুলনায় আমাদের রাজ্য বিহারের সরকার কোনো কিছুই করছেন না। যোগী আদিত্যনাথের এহেন জনপ্রিয়তা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের যে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
উত্তরপ্রদেশে থেকে বহু পরিযায়ী শ্রমিক বিহারে ফিরছেন। আবার অন্যান্য জেলা থেকে নিজের রাজ্য বিহারে ফেরার সময় উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলা পেড়িয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। তাই উত্তরপ্রদেশ সরকার তাদের জন্য রাস্তায় খাবার, জল এমনকী পরিবহণের ব্যবস্থাও করেছেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, প্রতিটি পুলিশ স্টেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্য করতে কিছু গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। থানা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সুব্যবস্থাও করেছে প্রশাসন। গোপালগঞ্জে আসা কিছু শ্রমিকের কথায়, “উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি পুলিশ আমাদের সাথে সহযোগিতা করছিলেন। গাড়ির ব্যবস্থা করে দিচ্ছিলেন। এমনকী আমাদের জন্য জল ও বিস্কুটের ব্যবস্থাও করছিলেন। কিন্তু বিহারে সেই তুলনায় কোনো কিছুই করতে দেখিনি।” একই সুর শোনা গেল বিহার-উত্তরপ্রদেশে সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা ১৫০ জন পরিযায়ী শ্রমিকের গলায়। বিহারের নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে তাঁরা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, বিহার সরকার আমাদের ফেরার ব্যবস্থাটুকুও করেছে না।
বিহার সরকার-এর তরফে বলা হচ্ছিল, ভিন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে নাকি ১০০০ টাকা করে জমা দেওয়া হবে! কিন্তু কই গেল সেই সব টাকা? সব উদ্বায়ী হয়ে গেল নাকি, যে সেই শ্রমিকরা কিছুই পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ করছে?
অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে নীতীশ বাবু বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফিরিয়ে লকডাউনের অবমাননা করছেন যোগী সরকার। এর ফলে সংক্রমনের আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু অন্যদিকে যোগী প্রশাসনের এত জনপ্রিয়তা যে তাদের ভোটব্যাঙ্কে ফেলবে তা হারে হারে টের পাচ্ছেন ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের কথায়, যোগী আদিত্যনাথের জনপ্রিয়তার শ্রীবৃদ্ধি হওয়া মানে বিজেপির সমর্থন বৃদ্ধি হওয়া। এমন পরিস্থিতি করোনা পরবর্তী বিহারে নির্বাচন হলে নীতীশ কুমারকে চরম বিপাকে পড়তে হতে পারে। অতিরিক্ত আসন চেয়ে কোনঠাসা করা হতে পারে তাকে। যদিও শনিবার সকালের উত্তরপ্রদেশের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যোগী প্রশাসনের পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।






