গত কয়েক বছর ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিসরে জোরালো আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের ঘটনা একবার হলেও বিশ্বমঞ্চে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি সেই সংঘর্ষ এবং ‘সিঁদুর অভিযান’কে ঘিরে আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে আলোচনার মঞ্চ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যে বিশেষ করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহল কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে।
ট্রাম্প ওয়াশিংটনের মার্কিন ক্যাপিটলে এক বক্তৃতার সময় দাবি করেছেন, ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের সংঘর্ষের সময় তিনি না থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ মারা যেতেন। একধরনের ‘মধ্যস্থতার’ দাবি হিসেবে তিনি বলেন, “পাকিস্তান এবং ভারত পরমাণু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারত। বহু মানুষ আমাকে জানিয়েছে, আমার হস্তক্ষেপ না থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মারা যেতেন।” এর মাধ্যমে ট্রাম্প একধরনের কৃতিত্ব স্বীকার করলেও পাকিস্তানের জন্য এটি অস্বস্তিকর মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে।
সত্যি বলতে, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি যে পাকিস্তানের পক্ষে মোটেই সুবিধাজনক ছিল না, তার নানা রিপোর্টে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে আকাশীয় যুদ্ধ এবং বিমানবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘর্ষের শেষ দিকে আকাশ প্রায় সম্পূর্ণভাবে ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ‘সেন্টার ফর মিলিটারি হিস্ট্রি অ্যান্ড পারস্পেক্টিভ স্টাডিজ়’ নামের সুইৎজারল্যান্ড ভিত্তিক সংস্থার রিপোর্টেও উল্লেখ আছে, সিঁদুর অভিযান দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুসেনার শক্তি ও সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করেছে। সেই কারণেই পাকিস্তানকে শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষবিরতি চাওয়ার পথ বেছে নিতে হয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যে অতীতের নানা বিষয়ও উঠে এসেছে। তিনি একাধিকবার সংঘর্ষের সময়ে ধ্বংস হওয়া যুদ্ধবিমানের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করেছেন। শুরুতে তিনি বলেছিলেন সাতটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, পরে বলেছেন আটটি, এবং সাম্প্রতিক বক্তৃতায় সংখ্যা বেড়ে ১১টি। এর মাধ্যমে ট্রাম্প বারবার এই সংঘর্ষে তার ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তবে ভারত এই দাবিকে কখনোই মান্যতা দেয়নি। শাহবাজ় শরিফের অবস্থান তার থেকে ভিন্ন হলেও এবার ট্রাম্পের মন্তব্যে তাঁরও অস্বস্তি প্রকাশ পেয়েছে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : SIR-এর কাজের কারণে ১৫টি আদালত স্তব্ধ! অনুপস্থিত বিচারকরা, মামলা থমকে, বারাসতে সৃষ্টি হলো বিশাল জটিলতা!
এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে সংঘর্ষের সময় সব দেশই জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। ট্রাম্পের মন্তব্য যেটি পাকিস্তানের জন্য অস্বস্তিকর, তা প্রকৃতপক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক এবং সামরিক ভারসাম্যকে আরও প্রমাণ করে। ভারতের আকাশ ও সামরিক নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা এবারও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। ফলে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে সমান ছিল না, এবং ট্রাম্পের মন্তব্য সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।





