ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়া যে দ্রুত বদলে যায়, তা নতুন কিছু নয়। তবে এবার শুরুটাই যেন আলাদা ইঙ্গিত দিচ্ছে। মনোনয়ন পর্ব ঘিরেই যাতে কোনও রকম অশান্তি বা অভিযোগের পাহাড় না জমে, সেই লক্ষ্যেই বড়সড় প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও কড়া নজরদারির পথে হাঁটছে কমিশন।
গত কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, ভোটের দিন যত না উত্তাপ ছড়িয়েছে, তার চেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়। জোর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের অভিযোগ, বিরোধী প্রার্থীদের বাধা দেওয়ার দাবি, রাজনৈতিক হিংসার খবর—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বহু জায়গায়। বিশেষ করে গত বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়ন পর্ব থেকেই একাধিক অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। সেই প্রেক্ষিতেই এবার আগাম সতর্ক নির্বাচন কমিশন।
সূত্রের খবর, ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকেই রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে আলাদা করে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে। প্রত্যেক বিধানসভা ভিত্তিক অন্তত একজন করে অবজারভার থাকবেন, যাঁরা মনোনয়ন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পুরো নির্বাচনী ধাপ পর্যবেক্ষণ করবেন। অর্থাৎ শুধু ভোটের দিন নয়, প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই থাকবে সরাসরি নজরদারি।
তবে এই পদক্ষেপ শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়। বাংলা-সহ মোট পাঁচটি রাজ্যে একই ফর্মুলা কার্যকর করছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই দেশের ১,৪৪৪ জন আইএএস, আইপিএস এবং আইআরএস আধিকারিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের তামিলনাড়ু, কেরল, অসম ও পুদুচেরিতেও পাঠানো হবে। আইপিএস অফিসাররা থাকবেন পুলিশ অবজারভার হিসেবে, আইএএস পর্যায়ের আধিকারিকরা জেনারেল অবজারভার এবং আইআরএস অফিসাররা আর্থিক লেনদেন ও খরচ সংক্রান্ত বিষয়ে নজর রাখবেন।
আরও পড়ুনঃ Donald Trump : “আমার হস্তক্ষেপ না থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মারা যেতেন” — ট্রাম্পের মন্তব্যে অস্বস্তিতে পাকিস্তান!
সব মিলিয়ে মনোনয়ন পর্ব থেকে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে বহুস্তরীয় নজরদারির পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগের অভিযোগ ও অশান্তির পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া ব্যবস্থা। এখন দেখার, মাঠের লড়াইয়ে এই কৌশল কতটা কার্যকর হয় এবং ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক চিত্র কতটা বদলায়।





