মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে ভারতেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্য সরকারগুলিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব দেশের অভ্যন্তরে পড়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে গোয়েন্দা তথ্য দ্রুত আদান প্রদান এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জেরে দেশে বিচ্ছিন্ন অশান্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেই মনে করছে দিল্লি। তাই আগাম প্রস্তুতি নিয়েই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামতে চাইছে কেন্দ্র।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর থেকেই ভারতের একাধিক শহরে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অভিযোগ উঠেছে, ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর বিশেষ করে কাশ্মীর উপত্যকায় শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। শ্রীনগরের লালচকে একদল মানুষ আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোথাও বড় ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। তবুও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন, যাতে আবেগের বহিঃপ্রকাশ কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়।
এই ইস্যুতে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া তীব্র। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ইজরায়েল ও আমেরিকার পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইরান মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর এবং তার সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত মেনে নেওয়া যায় না। একইভাবে কাশ্মীরের প্রধান ইমাম মীরওয়াইজ উমর ফারুকও এই হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন শিয়া সংগঠন শোকবার্তা প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের এই অবস্থান সাধারণ মানুষের আবেগকে আরও উসকে দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কাশ্মীরের বাইরে লখনউ ও লাদাখের লেহ শহরেও শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ বিক্ষোভে সামিল হন। আন্তর্জাতিক ঘটনার অভিঘাত যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুভূত হচ্ছে, এই ঘটনাগুলি তারই ইঙ্গিত বহন করছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যগুলিকে সতর্ক করে জানিয়েছে, চরমপন্থী গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় স্তরে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থির না হয়ে ওঠে।
এদিকে জামাতে ইসলামি হিন্দর সভাপতি সৈয়দ সাদাতোল্লা হোসেইনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করেছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি ভারতের কাছে স্বাধীন ও নীতিগত অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলিকে সংযম দেখিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বার্তাও দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংঘাতের এই অস্থির সময়ে ভারত যে অভ্যন্তরীণ শান্তি রক্ষা করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, কেন্দ্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ খামেনেই হত্যার পর বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের, ‘দু’বার আমাকে মারতে চেয়েছিল, আগে আমিই ওকে পেলাম’
ভারতে ইরান যুদ্ধের প্রভাব, মার্কিন ইরান সংঘাত, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সতর্কবার্তা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কা, কাশ্মীরে বিক্ষোভ, মেহবুবা মুফতির প্রতিক্রিয়া, মীরওয়াইজ উমর ফারুকের বক্তব্য, জামাতে ইসলামি হিন্দের নিন্দা, পশ্চিম এশিয়ার সংকট, ভারতের নিরাপত্তা সতর্কতা, শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ, শ্রীনগর লালচক বিক্ষোভ, লখনউতে প্রতিবাদ, লেহ লাদাখে বিক্ষোভ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব






