রঙের আবিরে ভিজে উঠেছে বাংলা। দোল পূর্ণিমার আনন্দে মেতেছে শহর থেকে গ্রাম। একই দিনে শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব তিথি—গৌর পূর্ণিমা। উৎসবের এই আবহেই উঠে এল এক রাজনৈতিক বার্তা। ধর্ম, সহিষ্ণুতা আর বাংলার ঐতিহ্য নিয়ে সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেচ্ছাবার্তার আড়ালে ছিল স্পষ্ট এক আবেদন—শ্রীচৈতন্যের বাংলাকে রক্ষা করার অঙ্গীকার।
দোলের সকালে সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, এই বিশেষ দিনে শপথ নিতে হবে যাতে শ্রীচৈতন্যদেবের বাংলার ধর্মনিরপেক্ষতা ও সহিষ্ণুতার ঐতিহ্যে কোনও দাগ না লাগে। তাঁর কথায়, মহাপ্রভুর মানবতার আদর্শ গত পাঁচশো বছর ধরে মানুষকে পথ দেখিয়েছে। ধনী-দরিদ্র, জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে একসূত্রে বাঁধার যে শিক্ষা তিনি দিয়েছিলেন, সেটাই বাংলার নবজাগরণের ভিত্তি গড়ে দেয়। মানবতার ধর্মই ছিল তাঁর প্রকৃত ধর্ম—এই বার্তাই নতুন করে মনে করিয়ে দেন প্রশাসনিক প্রধান।
তবে শুধু আদর্শের কথায় থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি তুলে ধরেছেন উন্নয়নের কথাও। নবদ্বীপকে ঐতিহ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার কাজ এগোচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মায়াপুরে ইসকনের তীর্থনগরী নির্মাণের জন্য সাতশো একর জমি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। অর্থাৎ ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো গড়ার দিকেও জোর দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পোস্ট নিছক শুভেচ্ছাবার্তা নয়। বরং সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তারই প্রেক্ষাপটে বিজেপিকে বার্তা দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে যখন তিনি সহিষ্ণুতার কথা বলছেন, তখন অন্যদিকে দেখা গেল ভবানীপুরে বিজেপির কর্মসূচি। দোল উপলক্ষে সেখানে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে উৎসবে অংশ নেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুনঃ হোলির রঙে ভিজে যখন রেখা, অমিতাভ টানলেন কাছে! স্ত্রী বারবার তাকিয়ে ছিলেন চুপচাপ! এরপর কী হয়েছিল? জয়া কী এমন দেখেছিলেন, যে তাঁর মেজাজ আজও এমন?
সেই মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যও ছিল তীব্র। তিনি বলেন, নাস্তিকতা নিপাত যাক, সেকুলারিজম নিপাত যাক—পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা যাতে সুরক্ষিত থাকে সেই প্রার্থনাই করবেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উৎসবের দিনেও দুই শিবিরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আদর্শগত সংঘাত। একদিকে সহিষ্ণুতা ও ঐক্যের বার্তা, অন্যদিকে সরাসরি মেরুকরণের স্লোগান—দোলের রঙের মধ্যেই যেন ফুটে উঠল বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক ছবি।





