BDO Prashant Barman : আত্মসমর্পণ নয়, উল্টে অফিসে এন্ট্রি! নীলবাতি গাড়িতে রাজগঞ্জে দেখা মিলল ‘ফেরার’ বিডিও প্রশান্ত বর্মনের!

বিধানসভা ভোটের আবহে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি যখন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তখনই এক ঘটনার জেরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গে। বহুদিন ধরেই যার খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ, সেই এক সরকারি আধিকারিককে হঠাৎই তাঁর পুরোনো অফিসে দেখা যাওয়ার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। কোথা থেকে এলেন, আবার কোথায় গেলেন— সেই নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।

ঘটনাটি জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লক অফিসকে কেন্দ্র করে। শনিবার দুপুরে হঠাৎই সেখানে দেখা যায় সাসপেন্ডেড বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নীলবাতি লাগানো একটি গাড়িতে হুটার বাজিয়ে তিনি অফিস চত্বরে ঢোকেন। শুধু একবার নয়, বেলা প্রায় বারোটা এবং দুপুর দু’টো নাগাদ দু’বার তিনি দপ্তরে আসেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি কেন এসেছিলেন, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

এই ঘটনাকে ঘিরে আরও বিস্ময়ের কারণ রয়েছে। কারণ, কলকাতায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম জড়ানোর পর থেকেই প্রশান্ত বর্মন কার্যত ‘ফেরার’ তালিকায় রয়েছেন। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি এখনও আত্মসমর্পণ করেননি। প্রথমে বারাসত জেলা আদালত থেকে আগাম জামিন পেলেও পরে হাইকোর্ট সেই জামিন খারিজ করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন, কিন্তু সেখান থেকেও তাঁর রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ হয়ে যায় এবং ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। তবু তিনি আদালতে হাজির হননি।

আরও পড়ুনঃ West Bengal Assembly Election 2026: “যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা”— ভোট ঘোষণার আগেই চেতলায় জনসংযোগে ফিরহাদ হাকিম, কী বার্তা দিলেন পুরমন্ত্রী?

অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার যখন তিনি রাজগঞ্জ বিডিও অফিসে আসেন, তখন তাঁর স্বাভাবিক আচরণই নজরে পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী জানান, প্রশান্ত বর্মন অফিসে ঢুকে কর্মীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন এবং সবার খোঁজখবরও নেন। তবে তিনি নিজের পুরোনো চেম্বারে ঢোকেননি। কিছুক্ষণ দপ্তরে কাটিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নাকি বলেন, সন্ধ্যার পরে আবার আসবেন। যদিও পরে তিনি আদৌ ফিরে এসেছিলেন কি না, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

উল্লেখ্য, খুনের মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই প্রশাসনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় প্রশান্ত বর্মনকে। তাঁর জায়গায় বর্তমানে জয়েন্ট বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ঘটনাচক্রে শনিবার যখন প্রশান্ত অফিসে আসেন, তখন সৌরভকান্তি দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন না। পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্যক্তিগত কাজে বাইরে ছিলেন এবং প্রশান্ত বর্মন অফিসে এসেছিলেন বলে তিনিও শুনেছেন। অন্যদিকে, রাজগঞ্জ থানার পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে— প্রশান্ত বর্মনের ওই দিনের অফিসে আসা সম্পর্কে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। ফলে পুলিশের চোখে ‘ফেরার’ থাকা এক অভিযুক্তের এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি ঘিরে বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও।

RELATED Articles