সব পুরনো রেকর্ড ভেঙে আসছে সে, বঙ্গোপসাগরে সব থেকে শক্তিধর ঘূর্ণিঝড়ের খেতাব উঠল আম্ফানের মাথায়!

ঘূর্ণিঝড় আমফানের তান্ডবের আশঙ্কায় এখন কাঁপছে ওড়িশা, দক্ষিণবঙ্গ ও বাংলাদেশ। এবার এলো আর‌ও এক আশঙ্কার খবর। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, স্মরণাতীতকালে বঙ্গোপসাগরে তৈরি সব থেকে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়‌ই হলো আম্ফান। ইতিমধ্যেই পুরোনো সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে সে। সোমবার সন্ধ্যায় ঝড়ের তীব্রতায় তৈরি করেছে নতুন উদাহরণ। যা দেখে প্রমাদ গুনছেন আবহবিদরাও।

https://www.facebook.com/Khabor24x7Official/videos/255849135531981/

রবিবার দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় আম্ফান। সোমবার সকালে তা পরিণত হয় সুপার সাইক্লোনে। তার পরও লাগাতার বাড়তে থাকে তার শক্তি। আবহবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুসারে সোমবার সন্ধ্যায় ঝড়টি বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাসে যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে ফেলে।

পর্যবেক্ষণ অনুসারে, সোমবার সন্ধ্যায় এই ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৭০ কিলোমিটার। যা দমকা হাওয়া রূপে ঘণ্টায় ৩৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের চাপ ছিল ৯০১ মিলিবার।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের শক্তিধর হয়ে ওঠার জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলে যাবতীয় রসদ মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তা যে এই রূপ ধারণ করতে পারে তেমন আশঙ্কা করেননি প্রায় কেউ। এর আগে বঙ্গোপসাগরে মাত্র ২টি ঘূর্ণিঝড় এই তীব্রতার কাছাকাছি যেতে পেরেছিল। তার মধ্যে একটি আঘাত হেনেছিল ওড়িশায়, অন্যটি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে।

১৯৯৯ সালের ২৯ অক্টোবর ওড়িশার পুরী ও কেন্দাপাড়া জেলার মধ্যে উপকূলে আঘাত হেনেছিল সুপার সাইক্লোন। ওই ঝড়ের দাপটে ওড়িশায় প্রায় ১০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার। ন্যূনতম বায়ুচাপ ছিল ৯১২ মিলিবার।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের চট্টোগ্রামে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় মেরি অ্যান। তার ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার। বাতাসের চাপ ছিল ৯১৮ মিলিবার।

আরও অন্যান্য খবর