করোনার হাত থেকে নিস্তার পেলেও, শ্বশুরবাড়িতে আক্রান্ত পুলিশকর্মী! সংক্রমণের ভয়ে রাস্তা আটক স্থানীয়দের!

করোনা আবহে এবার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে চূড়ান্ত হেনস্তার শিকার হতে হলো হাওড়া পুলিশ লাইনে কর্মরত অশোকনগরের বাসিন্দা এক যুবককে। তাঁর দোষ তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হওয়ার পরই তিনি গোপালনগরে শ্বশুরবাড়িতে যান। আর তিনি সেখানে পৌঁছালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। দীর্ঘক্ষণ চলে অবরোধ। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি।

জানা গেছে, ওই যুবকের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা এলাকায়। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই পরিবার নিয়ে অশোকনগরে থাকতেন তিনি। কর্মরত ছিলেন হাওড়া পুলিশ লাইনে। যুবকের পরিবারের লোকেদের কথায়, কিছুদিন আগেই তাঁর শরীরে করোনার একাধিক উপসর্গ দেখা দেয়। ঝুঁকি না নিয়েই তাঁর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই রিপোর্ট আসতেই জানা যায় তিনি করোনা আক্রান্ত। এরপরই বারাসত কদম্বগাছির কোভিড হাসপাতাল ভরতি করা হয় তাঁকে। এরপর পরপর দু’বার লালারস পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ায় সোমবার হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয় তাঁকে। রাতেই হাসপাতাল থেকে গোপালনগরের রামচন্দ্রপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান ওই যুবক। সেখানেই আরও ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ওই যুবক এলাকায় এসেছেন খবর রটতেই আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে। সকাল থেকেই ঘটনার প্রতিবাদে নহাটা-গোপালনগর সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। তাঁদের কথায়, “আমরা জানি না ওই পুলিশকর্মী নেগেটিভ না পজিটিভ। হঠাৎ করে গভীর রাতে নিজের বাড়িতে না গিয়ে শ্বশুরবাড়িতে কেন‌ও চলে এলেন তিনি? ওই যুবকের থেকে এলাকার মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।” প্রায় ৪ ঘণ্টা পর পুলিশের আশ্বাসে ওঠে অবরোধ। যুবকের শ্বশুর রমেন মজুমদার বলেন, “আমার জামাইয়ের পরপর দু’বার টেস্টে করোনা নেগেটিভ এসেছে৷ আমার বাড়িতে আলাদা ঘর রয়েছে। পুলিশের অনুমতি নিয়েই সে আমার বাড়িতে এসে রয়েছেন।”

আরও অন্যান্য খবর