ভোট মানেই শুধু গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং আস্থার প্রশ্ন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জাল ভোট, বুথ দখল বা অযাচিত ভিড় নিয়ে অভিযোগ বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা যে বাড়বে, তা অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। তবে এবার যে ধরনের কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলছে, তা নিঃসন্দেহে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।
সূত্রের খবর, ভোটের দিন বুথে প্রবেশের নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগের মতো শুধুমাত্র পরিচয়পত্র দেখিয়েই ভোটকক্ষে ঢোকা যাবে না তার বদলে এবার একাধিক ধাপ পার হতে হবে। এই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য, যাতে কোনও ভুয়ো ভোটার বা বহিরাগত সহজে বুথে ঢুকতে না পারে। সেইসঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমিয়ে ভোটারদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করাই প্রশাসনের উদ্দেশ্য।
এই নতুন ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ (Two-Step Verification)। প্রথম ধাপে বুথের প্রবেশপথে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা প্রতিটি ভোটারের আসল পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখবেন। এরপর দ্বিতীয় ধাপে, বুথের ভিতরে ‘ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ’ (Voter Assistance Booth)-এ উপস্থিত বিএলও (BLO) সংশ্লিষ্ট ভোটারের পরিচয় ও ঠিকানা পুনরায় যাচাই করবেন। বিএলও-র সবুজ সংকেত ছাড়া কোনও ভোটারই ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না, এটাই এই ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।
শুধু যাচাইকরণ নয়, বুথের আশপাশেও বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটের দিন বুথের ১০০ মিটার এলাকার মধ্যে কঠোরভাবে ১৬৩ বিএনএসএস (পুরনো ১৪৪ ধারা) বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট এলাকায় কোনও রকম ভিড় বা জমায়েত করা যাবে না। এমনকি বুথ সংলগ্ন সরু গলিগুলিতেও পুলিশ ও আধাসেনা নজরদারি চালাবে। পাশাপাশি প্রতিটি বুথ চত্বরে ‘ভিজিবল মার্কিং’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সহজেই বোঝা যায় কোন এলাকা সংরক্ষিত।
আরও পড়ুনঃ কাজলের পরিবারে অজানা গল্প! কিংবদন্তি তারকার সঙ্গে র’ক্তের সম্পর্ক! জানেন কিশোর কুমার কে হন অভিনেত্রীর?
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই পুরো ব্যবস্থায় কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কোনও আধিকারিক পক্ষপাতিত্ব করলে বা দায়িত্বে অবহেলা করলে আইনের কঠোরতম ধারা প্রয়োগ করা হবে। সেক্টর অফিসারদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিটি বুথে এই নতুন নিয়ম নিখুঁতভাবে মানা হয়। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, এবারের ভোটে যে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা রুখতে কমিশন একেবারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে এটাই এখন সবচেয়ে বড় বার্তা।





