‘‘৪ তারিখের পর বেছে বেছে ব্যবস্থা… ওরা শুরু করেছে, শেষ করব আমি’’ মিতালী বাগের উপর হাম*লায় আরামবাগ থেকে তী*ব্র ক্ষো*ভ উগরে বিজেপিকে কড়া হুঁশিয়ারি অভিষেকের!

আরামবাগে নির্বাচনী আবহের মধ্যেই হঠাৎ করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের উপর হামলার ঘটনাকে ঘিরে। ভোটের ঠিক আগের এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপিকে, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

সোমবার দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের শেষ দিনে আরামবাগে জনসভা করতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সভাস্থলে পৌঁছনোর আগেই তিনি খবর পান, আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের উপর হামলা হয়েছে। অভিযোগ, গোঘাট থেকে আরামবাগে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় প্রথমেই সভায় না গিয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংসদের সঙ্গে দেখা করেন।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মঞ্চে উঠে অভিষেক জানান, মিতালী বাগের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তিনি বলেন, “আমি ওঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু উনি কিছু বলতে পারছেন না।” এরপরই তিনি সরাসরি হামলার ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, এই হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তিনি জানেন এবং সবকিছু প্রমাণসহ সামনে আনা হবে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি জানি কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বেছে বেছে সবাইকে বের করা হবে। আরামবাগে তৃণমূল হারুক বা জিতুক, ৪ তারিখের পর সব হিসেব নেওয়া হবে।” তিনি আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেন, প্রাথমিকভাবে সোমাশ্রী, তাঁর স্বামী, সৌমেন পাল এবং দোলন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা ভাবছে আমরা কিছু জানি না, তারা ভুল করছে।”

এদিনের বক্তব্যে অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, এই ঘটনার পর তিনি আর কোনও রকম ছাড় দিতে রাজি নন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার হতে পারেন, কিন্তু আমি নই। তফসিলি মহিলার গায়ে যারা হাত দিয়েছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “গতবার আরামবাগের কিছু এলাকায় আমরা হেরে গিয়েছিলাম, তখন আমরা অনেককেই ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এবার ৪ তারিখের পর সবকিছুর হিসেব হবে।”

আরও পড়ুনঃ মালদার স্কুলছাত্রী অনুষ্কার পেন্সিল স্কেচে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী মোদী! প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ফোন ও স্বাক্ষরিত চিঠি পেয়ে উচ্ছ্বসিত পরিবার!

অন্যদিকে, একই দিনে গোঘাটের বর্মা এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা বিজেপির মিছিলে হামলা চালায়, যাতে প্রায় ১০০ জন আহত হন এবং তাঁদের আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই দুই ঘটনার পরপরই এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন এবং ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles