ভোট পরবর্তী বাংলায় ফের একের পর এক রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার বিভিন্ন এলাকা। বেহালার পর্ণশ্রী থেকে গড়িয়ার পঞ্চসায়র, সর্বত্রই হামলা, পাল্টা অভিযোগ, ভাঙচুর এবং উত্তেজনার চিত্র ধরা পড়েছে। কোথাও আরএসএস কর্মীদের মারধরের অভিযোগ, কোথাও বিজেপি এজেন্টের অফিসে হামলা, আবার কোথাও ইভিএম ইস্যুতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে। ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ছড়িয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর ও আতঙ্কের পরিবেশ।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে বেহালার পর্ণশ্রী এলাকায়। অভিযোগ, ভোট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই ওই এলাকায় দুই আরএসএস কর্মীকে মারধর করা হয়। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন অভিজিৎ ব্রহ্ম এবং প্রসেনজিৎ ব্রহ্ম। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের বাড়ির দিকে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষের সময় অভিজিৎ ব্রহ্মের মাথায় আঘাত লাগে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়ালে এলাকায় পুলিশ পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
আরও অভিযোগ, আক্রান্ত দুই আরএসএস কর্মী থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে উল্টে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরএসএস পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা মেলেনি। পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
একই সময়ে গড়িয়ার পঞ্চসায়র এলাকায় ভোট পরবর্তী আরেকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, যাদবপুর বিধানসভার অন্তর্গত ১৫৩ নম্বর বুথ এলাকায় এক বিজেপি এজেন্টের অফিসে হামলা চালানো হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল এসে ওই অফিসে ভাঙচুর চালায়। শুধু অফিসই নয়, পাশের একটি নির্মাণ সংস্থার কার্যালয়েও হামলা হয় বলে অভিযোগ। সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি এজেন্ট শান্তনু সরকারের বাড়ির দিকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিজেপির আরও দাবি, তাদের কর্মী প্রশান্ত ঘোষের বাড়িতেও ভাঙচুর করা হয় এবং সিসিটিভি নষ্ট করা হয়। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না, তবে তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি হামলাকারীরা পরিচয় গোপন করতে পাশের আরেকটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের স্থানীয় কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে, বেহালার পর্ণশ্রীতেই ভোট-পরবর্তী রাতে আরও একটি পৃথক ঘটনা ঘটে, যেখানে ইভিএম লুঠের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তৃণমূলের দাবি, হামলায় তাদের এক নেতা অঞ্জন দাস গুরুতর আহত হন এবং তাঁর মাথা ফেটে যায়। আহত আরও এক তৃণমূল কর্মীকে এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ব্লকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৯২.৫৬ শতাংশ রেকর্ড ভোটে নতুন অধ্যায় বাংলার রাজনীতিতে! কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণে তৈরি হলো নতুন নজির! দুই দফাতেই হিংসা*মুক্ত ভোট, নেই বড় কোনো সংঘ*র্ষ, নেই প্রাণ*হানি!
এই ঘটনার পর পর্ণশ্রী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একাধিক ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে কলকাতার বিভিন্ন অংশে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোট পরবর্তী সময়ে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টা অভিযোগ ঘিরে কলকাতার পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। প্রশাসনের ভূমিকা, রাজনৈতিক দলের অভিযোগ এবং মাঠপর্যায়ের সংঘর্ষ সবকিছু মিলিয়ে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের।





