ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র আবারও উত্তপ্ত। ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ, পুনর্নির্বাচন নিয়ে জল্পনা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁরা দলকে ভোট দেওয়ার কারণেই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের হামলার মুখে পড়ছেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসিমনগর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যা দ্রুত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির রূপ নিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই ফলতায় কি সত্যিই পুনর্নির্বাচন হবে?
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটের পর থেকেই তাঁদের ওপর লাগাতার হামলা চলছে। বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁদের খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাঁজোয়া গাড়িও দেখা গেছে এলাকায়। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ এক পঞ্চায়েত প্রধানকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
ফলতা কেন্দ্র এই নির্বাচনের শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানো, প্রভাবিত করা এবং হুমকি দেওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্বাচন কমিশন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে উত্তর প্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে আসে, যিনি ‘সিংহম’ নামেও পরিচিত। তাঁর কড়া বার্তার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। কিন্তু ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও উত্তেজনা কমেনি, বরং নতুন করে হিংসার অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এরই মধ্যে ইভিএম কারচুপির অভিযোগও সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর রিপোর্টে নাকি উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটের দিন সকালে একাধিক বুথের ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে দুপুর ১টা নাগাদ ‘টেপ রিভিউমড’ বলে তথ্য দেওয়া হয়, কিন্তু তার আগেই প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে যায়। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি ইতিমধ্যেই ২৩টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে, যা নিয়ে কমিশনের ওপর চাপ বাড়ছে।
আরও পড়ুনঃ টলিপাড়ায় গুঞ্জন! জনপ্রিয় তারকা দম্পতির ঘরে আসছে দ্বিতীয় সন্তান! নজর এড়াতে নীরবতা, চুপিসারে সুখবর লুকোচ্ছেন কোন জুটি?
এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে। আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনে গণনার পরেও পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। আবার গণনার আগের দিন বা রবিবারও রিপোল করানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নিজেও বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে সূত্রের খবর। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ফলতায় কি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কমিশন, নাকি বর্তমান ফলাফলের ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে?





